এক দিনেই ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি! বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডে মৃত ২৩

এক দিনেই ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি! বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডে মৃত ২৩

আরোহী নিউজ ডেস্ক: ২০১৩-এর পর সম্ভবত এই পরিমাণ বৃষ্টি দেখেনি উত্তরাখণ্ড। এক দিনে চারশো মিলিমিটারের বর্ষণে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যটা। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও তার জেরে হড়পা বানের কবলে পড়ে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৩ জনের। এখনও নিখোঁজ বহু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিন দিন ধরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরাখণ্ডে। তার ফলে নৈনিতালের জল উপচে ঢুকে পড়েছে শহরে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে সেতু। আটকে থাকা বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজ শুরু করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

গত ২৪ ঘণ্টায় নৈনিতাল শহর এবং সমতলের পন্থনগরে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, মুক্তেশ্বরে ৩৪০ মিলিমিটার, চম্পাবতে ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে আলমোড়া (২২০ মিমি), পিথোরাগড় (২১০ মিমি), বাগেশ্বর (২০০ মিমি), চামোলি (১৯০ মিমি) প্রভৃতি অঞ্চলে।

রাজ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। বাড়ি, সেতু ভেঙে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি হেলিকপ্টারকে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে।

বিপর্যয়ের অনেক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে নদীর জল ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তার ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। চালথি নদীর উপরে একটি নির্মীয়মান সেতু ভেসে গিয়েছে। নৈনিতালের মল রোড জলে ডুবেছে। ধস নেমেছে অনেক জায়গায়। হ্রদ লাগোয়া একটি হাসপাতালের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।

উত্তরাখণ্ডের জলাধারগুলি জলে ভরে যাওয়ায় নানক সাগর ও উধম সিংহ নগর জলাধার থেকে জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশেও কিছু কিছু জায়গায় ভয়াবহ বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বরেলি জেলার বারেহিতে ৫৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এই রেকর্ড ভাঙা বর্ষণের প্রভাব পড়তে পারে সমতলে। সেখানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর একটাই যে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমে গিয়েছে। বুধবার থেকে আবহাওয়া শুকনো হয়ে যাবে, ঝলমলে রোদেরও দেখা মিলবে।