মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমসত্ত্ব তুলে দিল বছর আটের সায়ন্তিকা, পেল রিটার্ন গিফ্টও

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমসত্ত্ব তুলে দিল বছর আটের সায়ন্তিকা, পেল রিটার্ন গিফ্টও

আরোহী নিউজ ডেস্কস্বপ্ন ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার। সেই মতোই সাইকেল চেপে রওনা দিয়েছিল মালদহের ইংরেজবাজারের আট বছরের সায়ন্তিকা দাস। মেয়ের ইচ্ছাশক্তিকে সমর্থন জানিয়ে পাশে ছিল দাস পরিবার। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে খুশি সায়ন্তিকা।

মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনস্কামনাপল্লী এলাকায় এক চিলতে টালি এবং পাকা দেওয়ালের বাড়িতে বসতি সায়ন্তিকা দাসের। বাবা প্রদীপ দাস পেশায় গাড়ির চালক ও মা উমা দাস গৃহবধূ। টানাটানির সংসারে শিক্ষার খরচ চালানোই ছিল সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে পড়াশোনার প্রতি বরাবরই প্রবল ইচ্ছা ছিল সায়ন্তিকার দুই দিদির। আর তখনই পাশে দাঁড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তৈরি কন্যাশ্রী প্রকল্প। বর্তমানে সায়ন্তিকার বড় দিদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও  ছোটদিদি পড়ে কলেজে। রূপশ্রী প্রকল্পের সাহায্যে বিয়েও হয়েছে প্রদীপবাবুর বড় মেয়ের। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে এল দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়ারা সায়ন্তিকা দাসের।

সায়ন্তিকা আসার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে যোগাযোগ করা হয় মালদহের জেলা শাসকের সঙ্গে। শেষমেষ মালদহ জেলা প্রশাসন গৌড় এক্সপ্রেসে টিকিট কেটে দেয় সায়ন্তিকার৷ তবে সঙ্গে ছিল তার সেই ছোট্টো সাইকেল। বৃহস্পতিবার সকালেই গৌড় এক্সপ্রেসে চেপে শিয়ালদহ স্টেশনে আসেন সায়ন্তিকা। সেখান থেকেই সাইকেল চালিয়ে সোজা কালীঘাটের বাড়িতে আসে বছর আটের এই খুদে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে আমসত্ত্ব তুলে দেয় সায়ন্তিকা।

 এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, বড় হয়ে সে কি হতে চায়? উত্তরে সায়ন্তিকা জানিয়েছে,  আইএএস অফিসার। সায়ন্তিকার মা উমা দাস জানিয়েছেন,  তিনি নিজের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে উচ্চশিক্ষা করতে পারেননি। অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। আর্থিক কারণে তাঁর মেয়েদের পড়াশোনারও মাঝপথে সমাপ্তি ঘটত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর  কন্যাশ্রী, রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। তাঁর ছোট মেয়ে সায়ন্তিকা তাই দিদির ভক্ত। ছোট মেয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী, তার সঙ্গে তাঁরাও এসেছিলেন দিদির কালীঘাটের বাড়িতে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ সময় কথা বলেন সায়ন্তিকার সঙ্গে। তার হাতে তুলে দেন উপহার। দিয়েছেন চকোলেট, বই। পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে পড়াশোনা সংক্রান্ত যা-যা সাহায্য দরকার, পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।