বর্ধমানে আরপিএফ এর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, স্থানীয় ব‍্যাবসায়ীদের রেল অবরোধ  

বর্ধমানে আরপিএফ এর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ, স্থানীয় ব‍্যাবসায়ীদের রেল অবরোধ  

আরোহী নিউজ ডেস্ক: রেলওয়ের জায়গায় দোকান করায়, একটি পেরেক মারলেও দিতে হবে টাকা। রেলওয়ের আরপিএফ এর বিরুদ্ধে গিত দুই বছর ধরে এরকম তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলি ফলেয়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলওয়ের আরপিএফ গত দুই বছর ধরে ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজি করে আসছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক সেলুন ব্যবসায়ী জুয়েল দাস তার দোকানের একটি ঝাঁপ সারাই করার দোকান খুলছিলেন। তখনই আরপিএফ এর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তার থেকে পাঁচ হাজার টাকা চায়। 

এসময় জুয়েল দাস সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিযোগ, এরপর টাকা না দেওয়ায় কাটোয়া থেকে আরপিএফ এর পুলিশরা এসে তাকে ব্যাপক মারধর করে। এছাড়াও সকালের আপ ট্রেনে করে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে। ফলে সমস্ত এলাকাবাসী রেললাইনে নেমে আসে এবং আপ ট্রেনটি অবরোধ করে। মিনিট দশেক ধরে চলে এই ট্রেন অবরোধ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় পূর্বস্থলী থানার আইসি এবং পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। এক পর্যায়ে তাদের সাথেও বাকবিতণ্ডায় জড়ায়ে পরে আরপিএফ এর কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। ফলে এ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। 

স্থানীয় দোকানদার এবং বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায়ই এভাবে জোরপূর্বক তোলাবাজি করে আরপিএফ এর লোকেরা। এমনকি এই এলাকায় বেশি পরিমাণে সবজি ট্রেনে তুলতে গেলে মান্থলি থাকা সত্ত্বেও দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা! এর ফলে সবজির দামেও প্রভাব পড়তো। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় তিনি বলেন, "আরপিএফ সাধারণ মানুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। তাই আমরা এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলাম। কিন্তু তারা আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করেছে। এরকম অরাজকতা আমরা চলতে দিতে পারি না। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদ স্বরূপ স্থানীয় সবজি বাজার সকাল থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আহত ওই জুয়েল দাস নামের দোকানি বর্তমানে পূর্বস্থলী ব্লক হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।