সংখ্যালঘু হিন্দুদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ইসকনের বিক্ষোভ কর্মসূচি

সংখ্যালঘু হিন্দুদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ইসকনের বিক্ষোভ কর্মসূচি

আরোহী নিউজ ডেস্ক: বাঙালীর প্রধান উৎসব দুর্গাপুজো। এই দুর্গাপুজোকে ঘিরে বাঙালী উৎসবের আনন্দে মেতে উঠলেও ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের বাঙালীরা মোটেই ভালো নেই। চোখের জলে দুর্গা মা-কে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়েছে তারা। কারণ মৌলবাদীদের উপর্যুপরি আক্রমণের ফলে দেশটির অন্তত পনেরটি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও খুনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই বর্বরোচিত আক্রমণের প্রতিবাদে আজ বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইসকন কর্তৃপক্ষ।

আজ নিউটাউনের গোশালায় অবস্থিত ইসকন মন্দিরে আসেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এসময় তিনি ইসকনের কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধা রমন দাসের সাথে বেশ কিছুক্ষণ এই বিষয়ে কথা বলেন। রাধা রমন দাস এই বিষয়ে বলেন, " আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি তিনি যেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে অতিদ্রুত এই বিষয়ে কথা বলেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে এই বিষয়ে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হোক যে এমনটা চলবে না, সেই বিষয়েও আমরা কথা বলেছি। এখনও আমাদের কাছে খবর রয়েছে যে বাংলাদেশে নির্যাতন ও হিংসা এখনও চলছে।  যতোক্ষণ না এই বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তুলবেন না, ততোক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে আমাদের হিন্দু ভাইবোনেরা অসুরক্ষিত।" 

রাধা রমন দাস আরও বলেন, "শুক্রবার বাংলাদেশের নোয়াখালীতে আমাদের ইসকন মন্দিরের সামনে দুর্গাপুজোর মন্ডপে হামলা চালায় ৫০০ জনের একটি দল। সেখান থেকে প্যান্ডেল ভাঙচুর শেষে ২০০ জন আমাদের মন্দিরে প্রবেশ করে। সেখানে সমস্ত ভক্তদের এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। এছাড়াও আমাদের দুই সেবায়েতকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশে ইসকন ও আমাদের হিন্দু ভাইবোনেরা ইতিমধ্যেই মৃত সেবায়েতদের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ জারি রেখেছে। এছাড়াও আমাদের সকল মন্দিরে আমরা প্রতিবাদ জারি রেখেছি। একই সঙ্গে, জাতিসংঘের কাছে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি এবং যোগাযোগ জারি রেখেছি। যখন অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একটা কাঁচও ভাঙা যায়, তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্টও আওয়াজ তোলে। কিন্তু বাংলাদেশে এই ৯ দিন ধরে যে অকথ্য ও নৃশংস নির্যাতন চলছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল একেবারেই নিশ্চুপ যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে আওয়াজ তুলবে না, ভর্ৎসনা করবে না, ততক্ষণ আমরা আমাদের প্রতিবাদ জারি রাখবো। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এই নৃশংসতার প্রতিবাদে আমরা আজ বিকেল ৫ টায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। এখনও আমাদের কাছে বাংলাদেশের হিন্দু ভাইবোনদের ফোন আসছে যে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই বিষয়ে যতোক্ষণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং গণমাধ্যমগুলো আওয়াজ না তুলবে এই নৃশংসতা থামবে না।" 

অন্যদিকে বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিজেপির পক্ষ থেকে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ জানাবে বিজেপি, এমনটাই জানালেন জয়প্রকাশ মজুমদার। এছাড়াও, ১৯ শে অক্টোবর কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করবে বিজেপি নেতৃত্ব। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে, হিন্দু ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিল করা হবে। প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি ড: সুকান্ত মজুমদার। এই কর্মসূচীতে বিজেপির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।