এবার পুজোয় ঘুরে আসুন কুড়দি,অন্তঃস্বলীলা গ্রামে 

এবার পুজোয় ঘুরে আসুন কুড়দি,অন্তঃস্বলীলা গ্রামে 

আরোহী নিউজ ডেস্ক:  অন্তঃস্বলীলা নদীর কথা অনেকেই জানেন। মাটির নিচে বা কোনও গুহার মধ্যে নিঃশব্দে বয়ে যায় নদী।তবে কখনো নদীর নিচে থাকা একটা গ্রামের কথা কী শুনেছেন?হ্যাঁ। শুনতে অবাক লাগলেও এটা একদম সত্যি।এই গ্রামের সন্ধান পেতে হলে যেতে হবে না খুব বেশি দূরে । গ্রামটি অবস্থিত ভারতের গোয়ায়,নাম কুড়দি। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত এই গ্রাম। বছরের মাত্র একমাস এই গ্রাম থাকতে আসেন গ্রামবাসী। বাকি এগারো মাসই গ্রামটি থাকে জলের তলায়। তাই গ্রামটিতে জনসংখ্যা কম। এমনিতেই গোয়ার সৌন্দর্য , তার উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অভাব নেই এই গ্রামে। প্রকৃতি যেন গ্রামটিকে সৃষ্টি করেছে নিজের তুলির টানে ।
এসব পড়বার পর আপনাদের মনে হতেই পারে সত্যি এটা কি আদৌ সম্ভব? সত্যিই, কুড়দি গ্রামকে প্রকৃতি গড়েছে এমনভাবেই। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলে গোয়ার সর্ববৃহত্‍ নদী জুরাই। প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামে। কুড়দি বেশ শস্যশ্যামলাও বটে। রয়েছে এখানে প্রচুর চাষযোগ্য জমি। মন্দির,মসজিদ,গির্জা সবই দেখা যায় কুড়দি গ্রামে। তবে শুধুমাত্র মে মাসেই থাকে সব দেখা যায়। বাকি এগারো মাসই থাকে সব কিছু নদীর জলের তলায়। তখন গ্রামবাসীর স্থান হয় অন্যত্র।

১৯৬১সালে গোয়া ছেড়ে চলে যায় পর্তুগিজরা। সেসময়, এখানে একটা বড় জলাধার বানাবার পরিকল্পনা নিয়েছিল তত্‍কালীন গোয়া সরকার। তখন সালাউলিম জুড়েই তৈরী করা হয় এই জলাধার। এখান থেকে জল সরবরাহ হত পশ্চিম গোয়ায়। ওই জলাধারে জল ধরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন লিটার। এই জলাধারের সম্পূর্ণ জল চলে যেত কারখানায়। ফলে, সমস্যায় পড়ে কুড়দি গ্রাম। জলের সমস্যার জন্য সেখানকার বাসিন্দারা চলে যায় ১৫কিমি দূরে ভাদেমি এবং ভালকিনিম গ্রামে। কিন্তু সেখানেও মুক্তি নেই। শুরু হয় সেখানে আবার জলের সমস্যা। ফলে সরকার সেই সমস্যা মেটাবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করে জলের। মে মাসে প্রতিবছর জল শুকিয়ে গেলে ঘরে ফেরার আনন্দে মেতে ওঠে কুড়দি গ্রামের বাসিন্দারা। বর্তমানে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন গ্রামবাসীদের উন্নতির উদ্দেশ্যে। তাই কী ভাবছেন?এবার পুজোয় একবার ঘুরে আসবেন নাকি এই গ্রামটিতে!!