বাড়ছে ভিন্ন স্বাদের চায়ের জনপ্রিয়তা,আন্তর্জাতিক চা দিবসে জেনে নিন চায়ের গুণাগুণ   

বাড়ছে ভিন্ন স্বাদের চায়ের জনপ্রিয়তা,আন্তর্জাতিক চা দিবসে জেনে নিন চায়ের গুণাগুণ   

অদ্রিজা ঘোষ : নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই,
এক ফোটা শান্তিতে তোমাকে চাই,
বহুদূর হেটে এসে তোমাকে চাই,
এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই... 

কবীর সুমনের বিখ্যাত গান তোমাকে চাই এর এই লাইনগুলি যারা চায়ে চুমুক দিয়েছেন তারাই মরমে উপলব্ধি করতে পারবেন। গোটা দুনিয়া আজ উদযাপন করছে বিশ্ব চা দিবস । রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২১ মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।মূলত পানীয় হিসেবে চা-কে আরও জনপ্রিয় করতে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালন করা হয়।  ঘুম থেকে উঠেই দিনের শুরুটা এক পেয়ালা চায়ে চুমুক দিয়ে আরম্ভ করেন অগুন্তি মানুষ।এছাড়া প্ৰিয় মানুষের সঙ্গে একপলকে একটু দেখা করতে গিয়ে এক কাপ চায়ের যুগলবন্দি জাস্ট জমজমাট। সারা বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে চা এর জনপ্রিয়তা। 

অনেক ধরণের চা রয়েছে। দার্জিলিং চা, কাশ্মীরি কাহ্বা, ব্লু টি, হয়াইট টি, সাফ্রন টি, মশলা চা, রঙ-বেরঙের চা। চা-প্রেমীদের অনেকেরই আকর্ষণ বিচিত্র ধরণের চায়ের কাপের প্রতি।নীলকণ্ঠ ফুলের সঙ্গে চা মিশিয়ে হয় ব্লু টি। যাতে লেবুর রস মেশালে হয় পার্পল টি। তবে আজও দার্জিলিং চায়ের জনপ্রিয়তা চা-প্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বেশি।  
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানীয় হিসেবে চায়ের বহু উপকারিতা রয়েছে। এতে রয়েছে আন্টি-অক্সিডেন্ট চা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।এছাড়া ওজন কমাতে এবং অস্থিকে সুরক্ষা দিতে সাহায়ো করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, করোনার সময় থেকে চায়ের কোম্পানিগুলি ঔষধিগুণসম্পন্ন নানা ধরণের চা বাজারে এনেছে। যেমন, তুলসি, অশ্বগন্ধা, দারচিনি ইত্যাদি চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে হচ্ছে ঔষধি চা, যার চাহিদা বর্তমানে সব থেকে বেশি।

চায়ের দোকানে প্রতিদিনই বহু মানুষ আড্ডা দিতেন। পাড়ার,পথেঘাটের চা দোকানীদের মতে, করোনার পর থেকে  রাস্তার চায়ের দোকানের পরিবর্তে ক্যাফেটেরিয়াতে গরম চায়ের কাপ হাতে আড্ডার হারটা বেড়েছে। এতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ চা দোকানিরা । তবে চা পান বাড়িতেই হোক অথবা আধুনিক সুসজ্জিত দোকানে, চায়ের জনপ্রিয়তা কবীর সুমনের সেই  গানের মতো..., এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই। চা রাজনীতি, সাহিত্যচর্চা থেকে শুরু করে প্রেম-বিরহেরও অমরসঙ্গি।