তিস্তার ভয়াল রূপ পাঁচ দশক আগের স্মৃতি ফেরাচ্ছে জলপাইগুড়িতে

তিস্তার ভয়াল রূপ পাঁচ দশক আগের স্মৃতি ফেরাচ্ছে জলপাইগুড়িতে

আরোহী নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় ১৯৬৮ সালে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল জলপাইগুড়ি শহর। প্রাণহানি হয়েছিল অসংখ্য মানুষের। ৫৩ বছর পর সেই বন্যার স্মৃতিই ফের ফিরছে জলপাইগুড়িতে। কাকতালীয় ভাবে ২০২১-এর মতো, ১৯৬৮ সালের সেই দিনটাও ছিল লক্ষ্মীপুজোই।

জলপাইগুড়ি শহরে তো প্রবল বৃষ্টি হচ্ছেই। কিন্তু তার থেকে বড়ো ভয়ের কথা হল পাহাড়ের বৃষ্টিপাত। সোমবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে চারশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের অন্যান্য জায়গায় গড়ে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এর জেরে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। বিভিন্ন জায়গায় তার জলস্তর বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। এনজেপি থেকে কালিম্পংগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপরে ২৯ মাইল এলাকায় রাস্তায় তিস্তার জল চলে এসেছে।

সেই জলই ক্রমশ নেমে আসছে সমতলে। ফলে জল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে গজোলডোবা জলাধার। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তিস্তা তীরবর্তী একাধিক জায়গায় জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি জলপাইগুড়ি শহরের একাধিক জায়গাতেও জল ঢুকতে শুরু করেছে।

তিস্তার জলে জলপাইগুড়ির সারদাপল্লি, সুকান্তনগর, মৌয়ামারি, চাঁপাডাঙা, নন্দনপুর, বোয়ালমারি, পাতকাটা প্রভৃতি এলাকা প্লাবিত। এই সব এলাকার বাসিন্দাদের উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে। নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ময়নাগুড়ির দোমহনি ১-এর‌ বাসুসুবা গ্রাম প্লাবিত।

মঙ্গলবার রাত থেকেই জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু ও পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তাঁরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। বালির বস্তা ফেলে নদীবাঁধ রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।