জোড়া খুন, প্রশ্নে আসানসোলের নিরাপত্তা 

জোড়া খুন, প্রশ্নে আসানসোলের নিরাপত্তা 

আরোহী নিউজ ডেস্ক: কুলটিতে শ্যুটআউট। শ্যুটআউটে নিহত ইসিএল কর্মী। খুনের কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা। অন্যদিকে, অন্ডালে রেলকর্মীর রহস্যমৃত্যু। সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে আসানসোল এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরভোটের আগে আসানসোলে জোড়া খুনের ঘটনায় জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কুলটিতে ইসিএল কর্মীকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, বা়ড়ির ভিতর থেকে রেলকর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছে অন্ডালে।

তখন বুধবার সকাল। সময় আনুমানিক দশটা। কয়েকজনের সঙ্গে এলাকায় বসেছিলেন কুলটির ইসিএল কর্মী পরেশ মাঝি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী হঠাৎই ওই এলাকায় উপস্থিত হয়। ভাল করে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীর দল খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত অন্যান্যরা ঘটনাস্থল থেকে তড়িঘড়ি ছুটে পালায়। তবে, অন্যান্যরা প্রাণে বাঁচলেও, পালাতে পারেননি ইসিএল কর্মী পরেশ মাঝি। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়াগুলিতে বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এদিকে, দিনেদুপুরে এমন ভাবে গুলি চালনার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে কুলটিতে।

এর আগে এদিনই অন্ডালে এক রেলকর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। রেলের সিনিয়র ওই লোকো পাইলটের নাম সত্যেন্দ্র কুমার ভাস্কর। এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, তেরো নম্বর রেল কলোনির বাসিন্দা সত্যেন্দ্র কুমার ভাস্করের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ফলে, তিনি একা-ই ছিলেন বাড়িতে। তবে, গত কয়েকদিন ধরে তাঁর দেখা মিলছিল না। এই অবস্থায় সিনিয়র লোকো পাইলটকে তাঁর পরিচিতরা ফোনও করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন এলাকার মানুষ এদিন সত্যেন্দ্র কুমার ভাস্করের বাড়িতে যান।

তাঁরা জানিয়েছেন, ঘরের দরজা খোলা ছিল। বাড়িও ছিল পুরো অন্ধকার। অন্ধকারের মধ্যে কোনওভাবে হাতড়াতে হাতড়াতে ঢুকে ঘরের মধ্যে রেলের লোকো পাইলটকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে নিহত রেল কর্মীর দেহ উদ্ধার করেছে। কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামনেই পুরভোট আসানসোলে। তার আগে একই দিনে জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় পুরভোটের আগে আসানসোলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।