মছলন্দপুরের মহিলা ঢাকিরা এবার ঢাক বাজাবেন সুইজারল্যান্ডে

মছলন্দপুর থেকে রুমা দালাল বিশ্বাস, দিপালী দাস ও তাঁর স্বামী সন্তোষ দাস পাড়ি দেবেন ইউরোপের সুইজারল্যান্ডে

মছলন্দপুরের মহিলা ঢাকিরা এবার ঢাক বাজাবেন সুইজারল্যান্ডে

আরোহী নিউজডেস্ক: কথায় আছে মহিলারা সব পারেন। পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাপটের সঙ্গে এগিয়ে চলেছেন মহিলাও। যেমন পুজোয় ঢাক বাজানোর ব্যাপারে পুরুষদেরই আধিপত্য ছিল একসময়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে পাল্টেছে চিত্রটা। এখন মহিলা ঢাকি বা ঢাকির দল পুজো মণ্ডপ আলো করে ঢাক বাজাচ্ছেন। ফলে দিন দিন পুরুষ ঢাকিদের পাশাপাশি চাহিদা বেড়েছে মহিলা ঢাকিদেরও। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ডাক পড়ল মহিলা ঢাকিদের। সুইজারল্যান্ডের এক দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজানোর জন্য ডাক পড়েছে মছলন্দপুরের মহিলা ঢাকিদের।

ইউনেস্কোর তরফে বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকদিন আগেই। তাই এই দেশ তো বটেই প্রবাসী বাঙ্গালীদের জন্যও এবারের দুর্গাপুজো ঘিরে রয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। আর দুর্গাপূজা মানেই ঢাকের বাদ্দি চাইই চাই। কয়েক বছর ধরে পুরুষ ঢাকিদের পাশাপাশি যথেষ্ট চাহিদা বেড়েছে মহিলা ঢাকিদেরও। ইতিমধ্যেই রাজ্য ও ভিন রাজ্য থেকে ঢাকিদের আগাম বায়না আসতে শুরু করেছে। সুদূর সুইজারল্যান্ড থেকেও পুজোতে ঢাক বাজানোর জন্য ডাক পড়েছে মছলন্দপুরের মহিলা ঢাকিদের।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মছলন্দপুর থেকে রুমা দালাল বিশ্বাস, দিপালী দাস ও তাঁর স্বামী সন্তোষ দাস পাড়ি দেবেন ইউরোপের সুইজারল্যান্ডে। সেখানকার এক পুজো মণ্ডপ ঢাকের বাদ্যিতে মুখরিত করবেন তাঁরা। বর্তমান রাজ্য সরকারের তরফে বেশ কিছু পুরুষ ও মহিলা ঢাকিকে সরকারি ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের তরফে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁদের ঢাক বাজাতে ডাক পরছে। উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরের বাসিন্দা শিবপদ দাস ২০১৪ সাল থেকে 'মোহিনী কাহারবা ঢাকি সমিতি' নামে একটি সংগঠন তৈরি করে মহিলাদের ঢাক বাজানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছিলেন।

বর্তমানে জনা পঞ্চাশের মহিলা ঢাকি ট্রেনিং নিচ্ছেন সেখানে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ঢাকিরা এরাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও সুনামের সঙ্গে ঢাক বাজাতে যাচ্ছেন। তবে এবার সুদূর সুইজারল্যান্ড থেকে ঢাক বাজানোর বরাত পাওয়ায় খুশি প্রশিক্ষক শিবপদও। প্রশিক্ষক শিবপদ জানালেন, সঠিক সময় হাতে পাসপোর্ট ও ভিসা না পাওয়ার কারণে তিনি নিজে যেতে পারছেন না। তাই কিছুটা হলেও তার মন খারাপ। তবে দলের মেয়েরা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, এটা ভেবে যথেষ্টই আনন্দিত তিনি।