অভিষেকের নির্দেশে বহিষ্কার করা হল সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন ও সচ্চিদানন্দকে

অভিষেকের নির্দেশে বহিষ্কার করা হল সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন ও সচ্চিদানন্দকে

আরোহী নিউজ ডেস্ক : আসন্ন পুরভোটে টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমা চট্টপাধ্যায় এবং পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ দাস। এর পরেই সেই মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে এই দু'জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত এই দু'জনকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল।

কোলকাতা পুরসভার 68 নম্বর ওয়ার্ডের টিকিট দেওয়া হয়েছিল প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু পরে তাকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয় ওই ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়কে। এরপরে নির্দলের প্রার্থী হিসেবে নাম লেখান তানিমা দেবী। যদিও মুখে জানান তৃণমূলের রয়েছেন তিনি।

এরপরেই সেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বলা হয় এই দুজনকে। এদিকে এই খবর পাওয়া মাত্রই তনিমা দেবী বলেন, তাকে এই বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে এলাকার মানুষ তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁকে চাইছেন না তাই নির্দল হয়ে লড়ছেন তিনি। অন্যদিকে সচ্চিদানন্দ দাস জানান, ২০১৬ সাল থেকে তিনি আর তৃণমূলের সদস্য নন। তাঁর সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। সুতরাং বহিষ্কারের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। 

এদিকে, এই দুই নেতা নেত্রীর বহিষ্কারের পর দেবাশীষ কুমার এবং ববি হাকিমরা জানিয়েছেন, বারবার এদেরকে সতর্ক করা ও বোঝানো সত্ত্বেও তারা যেভাবে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তা দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ বলে মনে করছেন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাই যে কোন দল বিরোধী কাজ কে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সমর্থন করেন না। সে কারণেই দলের সিদ্ধান্ত কে না মানলে দল তার বিরুদ্ধে যেকোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি বলে। সারা জীবনের জন্য এই দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর তাঁদেরকে দলে ফেরানোর সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গিয়েছে।