পাঠশালায় তালা, ধুঁকছে কুমোরটুলি

পাঠশালায় তালা, ধুঁকছে কুমোরটুলি

সৌমিতা ভট্টাচার্য :       ।। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষ্মী বিদ্যাংদেহি নমোহস্তুতে ।।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। আর বছর পড়তেই বাঙালি মজে বাগদেবির আরাধনায়। এই সরস্বতী পুজোকে ঘিরে প্রতি স্কুলেই থাকে হৈ হৈ রব। আল্পনা দেওয়া থেকে শুরু করে ঠাকুর অর্ডার ও পুজো, সব ঘিরেই এক ব্যস্ততার চিত্র দেখা যায় পাঠশালা গুলিতে। আর পড়ুয়াদের আনন্দে আনন্দিত থাকত মৃৎ শিল্পীরাও। তবে ২ বছর ধরে বদলেছে সেই ছবি। পাঠশালায় তালা পড়ায়, চিন্তায় পড়েছে কুমোররাও। আগের বছর বায়না হলেও এই বছর একেবারেই হতাশ কুমোরটুলির শিল্পীরা। “আগেরবছর বায়না হয়েছিল তবে এবার একেবারেই বাজার খারাপ। দু একটা বায়না হলেও, বেশিরভারজনই ভয় পাচ্ছেন। পুজো করে উঠতে পারবেন কিনা শেষ পর্যন্ত এই ভেবে”, বলেই জানিয়েছেন এক মৃৎশিল্পী। আরও একজন শিল্পীর মত, “দুবছর ধরে আমরা শেষ হয়ে গেচ্ছি। বাজারদল যে হারে বাড়ছে সেখানে আমাদের আর কিছু করার নেই। আমরা শিল্পীরা মাটির সঙ্গে মিশে গেছি”। 

তবে এই মন্দার বাজারে অল্পস্বল্প কিছু বায়না পেলেও মন ভরে আনন্দ পাচ্ছে না শিল্পীরা। ঠাকুর বায়না দিতে দেখা যেত পড়ুয়াদের ভিড়। সেই ছবি এখন নেই। হারিয়ে গিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে হাত হাত লাগিয়ে পুজোয় মেতে ওঠার আনন্দ। আর তাতে আরও থমথমে হয়ে পড়েছে কুমোরটুলি।একজন শিল্পী জানিয়েছেন, “ আগে বাচ্ছারা আসত, আমরাও মজা পেতাম ওদের আনন্দ দেখে। এখন শিক্ষক-শিক্ষিকারা এসে এই বায়না দিচ্ছে। ভেবে খারাপ লাগছে যাদের নিয়ে পুজো, তারাই আনন্দ করতে পারছে না”।

তবে শুধু কুমোরটুলি নয়, স্থানীয় দোকানগুলিতেও অবস্থা একই। ২ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বছরের শুরুতেও করুণ অবস্থা তাঁদের। অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি তাঁদের মুখেও।