উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও নীতি আয়োগের বৈঠক আবহে তাৎপর্যপূর্ণ মমতার পাচদিনের দিল্লি সফর

কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন, জিএসটি নিয়ে বিবাদের মধ্যেই এবারের নীতি আয়োগের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও নীতি আয়োগের বৈঠক আবহে তাৎপর্যপূর্ণ মমতার পাচদিনের দিল্লি সফর

আরোহী নিউজডেস্ক: পাচদিনের সফরে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরেই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, মুথ্যমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফর অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে বিজেপির দাবি, এই সফর ‘রথ দেখা কলা বেচার’। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, 'এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় যখন শাসকদলের নেতাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে তখন দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অনেক প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়'। কিন্তু দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, একজন মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই পারেন। অপরদিকে, সামনেই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বিরোধী শিবিরের প্রার্থী মার্গারেট আলভার সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, তিনি নিজেও মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে সমর্থন চেয়েছেন। তবে তৃণমূল এখনও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তে অনঢ়। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।  

 

আগামী রবিবার নীতি আয়োগের বৈঠক আছে, সেখানেই সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে তার আগেই শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে থাকতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার রাজনৈতিক মহল যে ওই বৈঠকের দিকে নজর রাখবেন এটা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাস যোজনার টাকা-সহ আরও অনেক খাতে কেন্দ্রের থেকে টাকা বকেয়া রয়েছে রাজ্যের। ওই টাকার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করবেন তিনি। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়ে রেখেছিলেন, টাকা না পেলে প্রয়োজনে দিল্লি ঘেরাও করবে তৃণমূল কর্মীরা। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি সমস্ত তথ্য জমা দেবেন। ওইদিনই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন‌্য সাক্ষাৎ হতে পারে মমতার।

অপরদিকে, নীতি আয়োগের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন, জিএসটি নিয়ে বিবাদের মধ্যেই এবারের নীতি আয়োগের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নীতি আয়োগের বৈঠকে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন দিল্লিতে। জানা যাচ্ছে, বৈঠকের আগে বা পরে কয়েকটি বিজেপি বিরোধী রাজ্য যেমন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তামিলনাড়ুর এম কে স্তানিল, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারেন। ওই বৈঠকেই সিবিআই, ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার ও বিজেপির এজেন্ডা নিয়েও কথা হবে। অপরদিকে দিল্লিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। বলাই বাহুল্য আসন্ন ২০২৪ লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী অক্ষকে একজোট করার প্রক্রিয়াকেও তরান্বিত করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে বা শুক্রবার সকালে দিল্লিতে তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের দিল্লির বাসভবনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল, কিন্তু সেটা বাতিল করা হয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, দিল্লি গিয়ে বিরোধী ঐক্যের লক্ষ্যে বিভিন্ন বৈঠক করলেও তাঁর সফরে আপাতত সুর চড়াবেন না তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।