পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস,উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী খাদ্যাভ্যাস,উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

আরোহী নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু বদলের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস।শিল্পবিপ্লবের পর থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়বার জন্য সবচেয়ে বেশি কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে শিল্পক্ষেত্রকে।তবে একটি  নতুন রিপোর্টে উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য। তথ্য বলছে শিল্পক্ষেত্র বা নির্মাণশিল্পের চেয়েও পরিবেশে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় । এর কারণ সারা বিশ্বের মানুষের খাদ্যাভ্যাস।সারা পৃথিবীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় তার ২১ থেকে ৩৭ শতাংশই আসে এর জন্য। এমনই তথ্য উঠে এসেছে, অ্যানুয়াল স্টেট অফ ইন্ডিয়াস এনভায়রনমেণ্টের রিপোর্টে। সম্প্রতি ব্রিটেন এবং আমেরিকার একাধিক বিজ্ঞানী একটি সমীক্ষা করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই উঠে এসেছে এমন তথ্য।

কৃষিকাজ,খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, খাদ্যবণ্টন এবং তার সঙ্গে যুক্ত বাকি সমস্ত প্রক্রিয়ার ফলে পৃথিবীতে বাড়ছে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ। বিশ্বে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস বের হয় তার ২১ থেকে ৩৭ শতাংশই আসে এই কারণে। বাকি ১৪ শতাংশ আসে পরিবহন শিল্প থেকে। শিল্পক্ষেত্র দায়ী ২১ শতাংশের জন্য। এছাড়া বিদ্যুৎ তৈরির জন্যও ২৫ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। পৃথিবীতে গ্রিনহাউস গ্যাস আটকাতে গাছই একমাত্র ভরসা।যখন উদ্ভিদের পচন হয়, তখন বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। বিশ্বে ক্রমশ বাড়ছে জনসংখ্যা। যার জন্য বাড়াতে হচ্ছে চাষের জমির জায়গা। সেই কারণে কাটা পড়ছে গাছ। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চাষের জন্য যে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাতে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার। এসবের জন্য বাড়ছে গ্রিনহাউস গ্যাস। পৃথিবীর ১৬টি দেশ থেকে ৩৭ জন বিজ্ঞানী নিয়ে তৈরি হয়েছে EAT-Lancet commision for food. তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত গোটা প্রক্রিয়া পাল্টাতে পারলে অনেকটাই কমানো যাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ।

তবে বিশ্বের বহু মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলানো সহজ কথা নয়। এতদিন পর্যন্ত যেভাবে কৃষিকাজ হয়ে  আসছে তাও হঠাৎ করে বদলে ফেলা সহজ নয়। কার্বন নির্গমণ কমাতে গেলে যেভাবে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে তার খরচ সামলানো অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস বা কৃষিকাজের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয় এটা যেমন সত্যি। তার সঙ্গেই এটাও ঠিক যে যদি কার্বন নির্গমন কমানোর জন্য এর উপর গুরুত্ব দেয়া  হয় তাহলে অন্যদিকে নিজেদের দায়ভার কমানোর চেষ্টা করতে পারে।