রাস্তায় ছাত্র-যুবরা থাকলেও সিপিআইএম নেতারা কেথায়? প্রশ্ন শীর্ষ নেতৃত্বের 

রাস্তায় ছাত্র-যুবরা থাকলেও সিপিআইএম নেতারা কেথায়? প্রশ্ন শীর্ষ নেতৃত্বের 

 আরোহী নিউজডেস্ক: বাংলা ও কেরলের সিপিএম নেতারা কী অবসর যাপন করছেন? ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সিপিএমের দু'দিনের পলিটব্যুরো বৈঠকে এই প্রশ্ন এই দুই রাজ্যের সিপিএম নেতৃত্বের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সিপিআইএম সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের সাধারণ সম্পাদকের এই সমালোচনায় বাংলাকে কেরলের তুলনায় অনেকটাই বেশি ভর্ৎসনা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সীতারাম ইয়েচুরি বাংলার পলিটব্যুরো সদস্যদের কাছে জানতে চেয়েছেন, বাংলায় ছাত্র-যুবরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাস্তায় থাকলেও তাঁদের সঙ্গে মহম্মদ সেলিম অর্থাৎ সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক ছাড়া আর কাউকে কেন দেখা যাচ্ছে না? কেন সিপিআইএম দল রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে না? চলতি মাসের ১৪ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার দাবিতে বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিপিআইএম কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই আন্দোলনেও বাংলার সিপিআইএম দল উপযুক্তভাবে আন্দোলন করতে পারছে না। পারছে না নিজেদের তুলে ধরতে।

প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল তৃণমূলের দুর্নীতি যে হারে প্রকাশ্যে এসেছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের মতো তৃণমূল নেতারা নিয়োগ দুর্নীতি, আর্থিক দুর্নীতি, গরু পাচারের দায়ে জেলে রয়েছেন, সেই বিষয়টিকেও বঙ্গ সিপিএম সেইভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রচারে আনতে পারেনি কেন সেই নিয়েও দু'দিনের পলিটব্যুরোর বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন শিক্ষার মত একটি বিষয়কে নিয়ে যে দুর্নীতি করেছে, সেই ঘটনা এখন প্রকাশ্যে এলেও এই দুর্নীতিকে তেমনভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বঙ্গ সিপিআইএম। এই প্রসঙ্গে বাংলার সিপিআইএম নেতৃত্বের দিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে প্রশ্ন উঠেছে। এক পলিটব্যুরো নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সীতারাম ইয়েচুরি দু'দিনের পলিটব্যুরো বৈঠকে বলেছেন, ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কলকাতায় ও জেলায় সিপিআইএম নেতা বলতে একমাত্র মহম্মদ সেলিমকে দেখা যাচ্ছে। বাংলার বাকি সিপিএম নেতাদের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা অবসর যাপন করছেন। এই পরিস্থিতির কারণ কি? সেই প্রশ্নও উঠেছে বঙ্গ সিপিআইএমের প্রসঙ্গে।

সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতে যখন লেখা হচ্ছে, নিজাম প্যালেসে রাজ্যের শিক্ষার দায়িত্বে থাকা তিন শীর্ষকর্তা রয়েছেন, তখন সত্যিই সিপিআইএমের নেতাদের এই ইস্যুতে পথে দেখা যাচ্ছে কী? এই প্রশ্ন খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই উঠেছে বৈঠকে। 
পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বাংলার সিপিআইএম নেতৃত্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সামনেই পশ্চিম বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন। বাংলার শাসকদলের এই দুর্নীতি বেশি বেশি করে বঙ্গ সিপিআইএমের প্রচারে আনতে হবে কিন্তু সেটা হচ্ছে কোথায়? তুলনায় সোশাল মিডিয়া, টিভি চ্যানেলে বেশি সক্রিয় থাকছেন দলের নেতারা। যতটা সংবাদ মাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় সিপিআইএম নেতারা সক্রিয় ততটা মাঠে ময়দানে তাঁরা সক্রিয় নয়। 

২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম শূন্য হয়ে গেলেও তার পরবর্তী সময়ে রাজ্যে হওয়া বেশ কয়েকটি উপনিবাচনে বিজেপিকে পিছনে ফেলে সিপিআইএম দ্বিতীয় জায়গা দখল করতে সক্ষম হয়েছে। সিপিআইএম শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে বাংলায় এই অবস্থানটিকে বজায় রেখে সিপিআইএম পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে যাক, কিন্তু তা হচ্ছে কোথায়?