দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার আশঙ্কা আফগানবাসীদের

দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার আশঙ্কা আফগানবাসীদের

আরোহী নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে বর্তমানে চলছে তালিবান রাজ। আর সেই তালিবান রাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যেন সমস্ত দেশ তাদের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। বিশ্বের কোনও দেশই তালিবান সরকারকে মান্যতা দিতে রাজি নয়। আর তার ফলেই বিদেশী সাহায্য ও ত্রাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে আফগানিস্তানে।

আমেরিকার সেনাবাহিনী আফগানিস্তার ছাড়ার পর বহু মানুষ সে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ সফল হন, ব্যর্থ হন অনেকেই। এর পর থেকেই দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘ খরার জেরে ফসলের ফলনও ভাল হয়নি। ফলে খাদ্যাভাব চরমে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, শীঘ্রই খরা-দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি দেখা দেবে এ দেশে।

অপরদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের তরফে বলা হয়েছে, দিনদিন জিনিসপত্রের দাম ক্রমশই বাড়ছে। তার উপর অর্থাভাব যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নিয়ে এফএও-র আফগান প্রতিনিধি রিচার্ড ট্রেনচার্ড বলেছেন- "ভয়ানক পরিস্থিতি। কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রায় সকলেই তাঁদের সব শস্য হারিয়েছে। অনেকে গৃহপালিত পশু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। তাঁদের ঘাড়ে এখন বিশাল ঋণের বোঝা। হাতে কানাকড়িও নেই। ধারদেনা করে কোনও মতে সংসার চালাচ্ছেন।" এছাড়া তিনি আরও বলেছেন- "কোনও চাষিই তাঁদের জমি ছেড়ে যেতে চাইছেন না। কিন্তু তাঁদের কাছে খাবার নেই। আগের বারের ফলনের একটি দানাও বেঁচে নেই। ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজনীয় বীজ নেই। গৃহপালিত পশুও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এ অবস্থায় তো সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই।"

সর্বোপরি, রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ আফগান রোজকারের খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। তবে, যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি সত্যি আফগানবাসীদেরকে দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি কতটা এগিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।