শেষ ম্যাচে খালি হাতেই  ফিরলেন ঝুলন, শেষ বেলায় কোথায় যেন মিলে গেলেন সৌরভ আর ঝুলন

শেষ ম্যাচে খালি হাতেই  ফিরলেন ঝুলন, শেষ বেলায় কোথায় যেন মিলে গেলেন সৌরভ আর ঝুলন

আরোহী নিউজ ডেস্ক: আর পাঁচজনের মতোই তিনি। কোনওদিন সেলিব্রিটি হতে চাননি। কিন্তু ২০ বছরের দীর্ঘ ক্রিকেট পরিক্রমা তাঁকে রীতিমতো কিংবদন্তি বানিয়ে দিয়েছে। এত পর্যন্ত পড়ার পরে সবাই বুঝতেই পারছেন কার কথা বলা হচ্ছে। তিনি ঝুলন গোস্বামী। ক্রিকেট মাঠের সবুজ গালচেতে যিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু মণিমানিক্য। আজ ঝুলন গোস্বামীর ক্রিকেট পরিক্রমা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। 

সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার এই যাত্রাপথ মোটেও ফুলের পাঁপড়ি বিছানো ছিল না। চাকদহের বাড়ি থেকে কিট ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ভোর ৪.৪৫-এর লোকাল ট্রেনে উঠে পড়ত মেয়েটা। চোখে ছিল স্বপ্ন। চাকদহ থেকে শিয়ালদহ হয়ে বিবেকানন্দ পার্ক। ঝুলন গোস্বামীর এই জার্নি এখন কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।

জীবনের শেষ ম্যাচ চোখে জল এনেছিল অনেকেরই। স্যর ডন নাকি আবেগে বল দেখতেই পাচ্ছিলেন না। শেষ ম্যাচের পরে শচীন তেন্ডুলকরের সেই বিখ্যাত বিদায়ী সম্ভাষণ ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে এনে দিয়েছিল শ্রাবণের বারিধারা। মাস্টার ব্লাস্টারও সেদিন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন। লর্ডসের শেষ ম্যাচে ঝুলনকে কাঁদতে দেখেনি ক্রিকেটবিশ্ব। বরং তাঁর অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর হাউ হাউ করে কাঁদেন। অধিনায়ককে সান্ত্বনা দেন বাংলার মেয়েটা। তাঁকেই টস করতে পাঠিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। ব্যাট করতে নামার সময়েও তো আবেগের বিস্ফোরণ দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। গোটা ইংল্যান্ড দল গার্ড অফ অনার দিল ঝুলনকে। ব্যাট তুলে তিনি ধন্যবাদ জানালেন তাঁদের। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা বোধহয় আজ অন্য এক চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিলেন তাঁর জন্য। প্রথম বলেই ফিরে গেলেন তিনি। শেষ বেলায় কোথায় যেন মিলে গেলেন সৌরভ আর ঝুলন। শেষ ইনিংসে ক্রেজার বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়েছিলেন সৌরভ। রান পাননি মহারাজ। ঝুলনও পারলেন না রান করতে। বল হাতে অবশ্য ঝুলন নেন দুটি উইকেট। অ্যালিস ক্যাপসি, কেট ক্রসের উইকেট নেন তিনি। যে বৈচিত্রের জন্য বিখ্যাত ঝুলন, তাও দেখা গেল লর্ডসে। কেরিয়ারের শেষ বলটি করার পরে আরও একবার আবেগঘন লর্ডস। সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন বাংলার মেয়েকে।