১৮ জুলাই ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিধি

  ১৮ জুলাই ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিধি

আরোহী নিউজ ডেস্ক :  ১৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ভারতীয় সংবিধানের ৫৪ এবং ৫৫ নম্বর ধারায় পরোক্ষ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। তবে গণপরিষদের সদস্যদের একাংশ একসময়ে পরোক্ষ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা গ্রাহ্য হয়নি। কারণ দেশের রাষ্ট্রপতিকে নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত করার পদ্ধতি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর ক্ষেত্রে সম্মানজনক হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সেকারণে পরোক্ষভাবে সম্পন্ন হয় এই নির্বাচন প্রক্রিয়া।
ভারতীয় সংবিধানের ৬২তম অনুচ্ছেদ অনুসারে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৫ জুলাই। এর আগে ১৮ জুলাই, সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে। ফল ঘোষণা হবে ২১ জুলাই।সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় গোপন ব্যালটে। যদিও ভোটদাতাদের একাধিক প্রার্থীকে ভোটদানের অধিকার রয়েছে। একাধিক প্রার্থীকে ভোট দিলেও ভোটদাতাকে জানাতে হবে তাঁর পছন্দের প্রথম প্রার্থী কোনজন। অন্যথায় ব্যালট পেপার বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।

এতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত যে নিয়মকানুন জারি ছিল চলতি বছরে সেই নিয়মের খানিক রদবদল ঘটেছে। নতুন নিয়মে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে ৫০জন সমর্থক এবং ৫০জন প্রস্তাবকের প্রয়োজন হবে। এর আগে ন্যূনতম বয়স ৩৫ হলে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতেন। এই নিয়মের ক্ষেত্রে এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পুরনো নিয়মে ৫ হাজার টাকা জমা রাখতে হত। এবার সেই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতির সঙ্গে অন্য নির্বাচন পদ্ধতিগুলির কোনও মিল নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রত্যেক লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ এবং বিধায়কের ভোটের মূল্য নির্ভরশীল সাংসদ কিংবা বিধায়কদের রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশে এক-একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য ২০৮। সেহিসেবে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩জন বিধায়কের ভোটের মূল্য হবে ২০৮-কে ৪০৩ দিয়ে গুণ করে যে ফলাফল দাঁড়াবে সেটাই। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের ৮০জন সাংসদের ভোটের মূল্য হবে ৭০৮ কে ৮০ দিয়ে গুণ করে যে ফলাফল দাঁড়াবে সেটাই। মোট প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকের বেশি ভোট পেতে হবে রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হতে হলে। কেবলমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই হবে না। যে পদ্ধতিতে ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই পদ্ধতি সংবিধানের ভাষায় 'একক হস্তান্তরযোগ্য জোটের মাধ্যমে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব' হিসেবে পরিচিত।