একসঙ্গে বেশি মানুষকে গঙ্গাসাগরে না যাওয়ার পরামর্শ মমতার

একসঙ্গে বেশি মানুষকে গঙ্গাসাগরে না যাওয়ার পরামর্শ মমতার

আরোহী নিউজ ডেস্ক: এবার গঙ্গাসাগর নিয়ে মুখ খুললেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, "আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে। RT-PCR টেস্ট ছাড়া গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়া যাবে না"। মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্ট নয়া শর্তসাপেক্ষে মেলা করার অনুমতি দিয়েছে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশ এবং করোনাবিধি মানতে বদ্ধপরিকর দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন। 

রাজ্যে করোনা আবহেই শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যেই শর্তসাপেক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেলা। ইতিমধ্যেই মেলামুখী অনেক তীর্থযাত্রীর করোনা ধরা পড়েছে। আবার মেলায় আগত পুন্যার্থীদের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দেন, "একসঙ্গে বেশি মানুষ যেন সাগরমেলায় না যান। করোনা মোকাবিলায় জীবন দিয়ে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকলে চিকিৎসক-প্রশাসনের কর্মীরা কাজ করছেন। সাধু-সন্তদের বলব আপনারাও সহযোগিতা করুন। হই হুল্লোড় করবেন না। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছি"। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "কোভিড-ওমিক্রন আমাদের হাতে নেই। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আপনিও সুস্থ থাকুন, আর পাঁচজনকেও সুস্থ রাখুন।"

মেলা উদ্বোধনের আগেই সাগরে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ভিড়ে লাগাম দিতে অবশ্য প্রশাসনের চেষ্টার ত্রুটি নেই। গঙ্গাসাগর মেলায় প্রবেশের নিয়মকানুনে আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। করোনা ভ্যাকসিনের জোড়া ডোজ ছাড়া মেলায় প্রবেশ করা যাবে না। এছাড়া মেলায় যাওয়ার ৭২ ঘণ্টা আগে আরটিপিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ হতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করলে, তবেই কেউ পুণ্যার্থী হিসেবে গঙ্গাসাগর মেলায় অংশ নিতে পারবেন না। 

মঙ্গলবার হাইকোর্টের পক্ষ থেকে এই নয়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আগের নির্দেশিকায় বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুরো গঙ্গাসাগর দ্বীপকে নোটিফায়েড জোন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, এই সমস্ত বিষয় কার্যকর করবেন মুখ্যসচিব। তবে, সব শর্ত মানা হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখবেন দুই সদস্যের কমিটি।

উল্লেখ্য, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনেই শর্তসাপেক্ষে শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। রাজ্য সরকার এই কোভিড সংক্রমণে লাগাম দেওয়ার সবরকম প্রস্তুতি নিলেও, তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।