স্বস্তিক চিহ্নে মঙ্গল! জেনে নিন ইতিহাস

স্বস্তিক চিহ্নে মঙ্গল! জেনে নিন ইতিহাস

আরোহী নিউজ ডেস্ক: রাত পেরোলেই বাংলা নববর্ষ। ইংরাজী, হিন্দির ধাক্কায় বাংলা ভুলতে বসা বাঙালির কাছে নববর্ষ মানেই হালখাতা আর পাটভাঙা শাড়ি, সেলফি আর ফেসবুক পোস্ট। তবে কিছু মানুষ তো এখনো শিকড় খোঁজে! নববর্ষের পুজো, নতুন খাতায় সিঁদূর দিয়ে স্বত্বিক চিহ্ন, কলা গাছ, মঙ্গলঘট নানান রীতিনীতি সব বাঙালির ঐতিহ্য। সেসবের শিকড় খুঁজতে গেলে টাইম মেশিন জরুরি নয়, জরুরি জানবার ইচ্ছে। এই মঙ্গল ঘটে স্বত্বিক চিহ্ন আঁকা বাঙালির এক পুরাতন রীতি। কিন্তু কত পুরোনো এই রীতি!

ইতিহাস বলছে ভারতীয় সংস্কৃতিতে সুখ শান্তি আর সম্বৃদ্ধির প্রতীক স্বস্তিক চিহ্ন। কখনও মন্দিরের গায়ে। কখনও আবার বাড়ির সামনে আলপনায়। শুধু হিন্দু ধর্মেই নয়, বৌদ্ধ বা জৈন মন্দিরেও দেখা যায় এই মঙ্গল চিহ্ন। অবাক লাগলেও এই স্বস্তিক চিহ্নই ছিল হিটলারের পতাকাতেও।

স্বস্তিক একটি সংস্কৃত শব্দ। মূল শব্দ স্বস্তিকা। অর্থাৎ কল্যাণ বা মঙ্গল। এর নির্দিষ্ট কোন অর্থ নেই। যেহেতু সূর্য নিজেই সৌভাগ্য, সৃষ্টি এবং জীবনের প্রতীক, তাই সূর্যদেবতার সাথে স্বস্তিকার একধরনের সম্পর্ক টানতে চেয়েছেন অনেকেই। তবে সকল দিক এবং মত অনুসারেই স্বস্তিক শুভের চিহ্ন। স্বস্তিক চিহ্ন কেবল হিন্দুদের মধ্যে প্রচলিত নয়। অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও একে প্রবিত্র মনে করে। স্বত্বিক চিহ্নের চার বাহু সমান। অর্থাৎ এই চিহ্ন সমতারও প্রতীক। 

গবেষকরা বলছেন, ১১ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই স্বস্তিক চিহ্ন। প্রাক হরপ্পা যুগেও এই চিহ্নের সন্ধান মিলেছে। এমনকি বেদেও মিলেছে স্বস্তিক চিহ্নের উল্লেখ। শুধু ভারতে নয় এই চিহ্ন বিভিন্ন দেশে মানুষ শুভ মনে করেন।  বিভিন্ন দেশে এই চিহ্ন বিভিন্ন নামে পরিচিত - যেমন চিনে ‘ওয়ান’, জাপানে ‘মনজি’, ইংল্যান্ডে ‘ফাইলফোট’, জার্মানিতে ‘হাকেনক্রয়েজ’ এবং গ্রিসে ‘টেট্র্যাস্কিলিয়ন’ বা ‘তেত্রাগামাদিয়ন’।

মঙ্গলময় এই চিহ্নকে ইতিহাসের নৃসংশতম একনায়কও প্রতীক করেছিলেন। কিন্তু জয় হয়েছিল শুভর। এই চিহ্ন তামাম বিশ্বের কাছে মঙ্গল চিহ্ন হয়েই আছে।