নিভে গেল ‘আলো’, অন্তরালে তরুণ মজুমদার

নিভে গেল ‘আলো’, অন্তরালে তরুণ মজুমদার

আরোহী নিউজ ডেস্ক : গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদারকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর দুসপ্তাহের বেশি সময় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সোমবার জীবনাবসান হল ৯১ বছরের তরুণ মজুমদারের। তরুণ মজুমদারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালকের মরদেহ দান করেছেন এসএসকেএম হাসপাতালের অ্যানাটমি বিভাগে। গবেষণার কাজে লাগবে কিংবদন্তি পরিচালকের মরদেহ। এছাড়া কর্নিয়া দান করা হচ্ছে শঙ্কর নেত্রালয়ে। সোমবার জীবনের সঙ্গে লেনাদেনা ফুরিয়ে গেল কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদারের। এদিন তরুণ মজুমদারের জীবনাবসানের পরে হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন। প্রয়াত পরিচালক তরুণ মজুমদারের শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাঁর মরদেহ দান করা হল এসএসকেএম হাসপাতালের অ্যানাটমি বিভাগে। তবে দেহদানের ব্যাপারে লিখিত কোনও অঙ্গীকার করেননি তরুণবাবু। মরণোত্তর দেহদানের ব্যাপারে যে ইচ্ছা ছিল তরুণবাবুর তাকে মান্যতা দিয়েছেন তরুণ মজুমদারের পরিবারের সদস্যরাও।

এদিন তরুণ মজুমদারের মৃত্যুর পরে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একারণে রাজ্য সরকারের তরফে প্রয়াত পরিচালক তরুণ মজুমদারকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্যে কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। রাজ্য সরকারের তরফে একথা জানিয়েছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র তরুণ মজুমদার চাননি ফুলমালা দিয়ে তাঁকে শেষবিদায় জানানো হোক। এদিন টালিগঞ্জের এনটি ওয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হয় তরুণবাবুর মৃতদেহ। সেখানে তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানান শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এরপর দেহদানের জন্যে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএমে। তরুণবাবুর মরদেহের গায়ে জড়ানো হয় লাল পতাকা। আর বুকে রাখা গীতাঞ্জলি।

এদিন প্রয়াত তরুণ মজুমদারকে তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মতো তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সিপিএম নেতা বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী, শতরূপ ঘোষ, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, রবীন দেবের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও।