গর্ভপাতে বিবাহিত-অবিবাহিত বৈষম্য করা অসাংবিধানিক, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের 

অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাওয়ার অধিকার একজন নারীর মৌলিক অধিকারের সমতুল্য, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

গর্ভপাতে বিবাহিত-অবিবাহিত বৈষম্য করা অসাংবিধানিক, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের 

আরোহী নিউজডেস্ক: গর্ভপাত নিয়ে যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের।  বৈবাহিক বা অবৈবাহিক এখন থেকে দেশের সব নারীকেই নিরাপদ গর্ভপাতের অধিকার দিল দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং জে বি পারিদওয়ালার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি (এমটিপি) আইনে বিবাহিত এবং অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে পার্থক্য করা কৃত্রিম এবং অসাংবিধানিক। কারণ এটি ধরে নেওয়া হয়েছে যে শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারাই এতে লিপ্ত হন। বিবাহিত মহিলাদের মতো অবিবাহিত মহিলাদেরও গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করার অধিকার থাকা উচিত বলেও এদিন মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়। অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাওয়ার অধিকার একজন নারীর মৌলিক অধিকারের সমতুল্য, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের।  


গর্ভপাতের অধিকারের পাশাপাশি ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, “মহিলারা জোর করে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়তে পারেন। এক জন মহিলা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর বেলগাম আচারণে অন্তঃসত্ত্বা হতে পারেন। অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থা থেকে মহিলাদের বাঁচানো খুব দরকার। জোর করে ঘটা ঘটনার জেরে গর্ভবতী হওয়াও ধর্ষণের সামিল”। এদেশে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের আওতায় ফেলা হয় না। ফলে দেশে একাধিক নারীকে ঘরোয়া হিংসার শিকার হতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় সেক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।