মাওবাদী কার্যকলাপে টাকা জোগানোর অভিযোগ, এনআইএ-এর জালে কলকাতার ব্যবসায়ী

 মাওবাদী কার্যকলাপে টাকা জোগানোর অভিযোগ, এনআইএ-এর জালে কলকাতার ব্যবসায়ী

আরোহী নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী সংগঠনকে টাকা জোগানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে সল্টলেক থেকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। আধুনিক পাওয়ারের প্রাক্তন এমডি মহেশ আগরওয়াল নাম ওই ব্যবসায়ীকে এনআইএ কর্তারা গ্রেফতার করে।  তাকে আজ ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে তোলা হবে। 

 জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাওবাদী সংগঠনকে হিংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ ওঠে। বুধবার সকালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) রাঁচির টিম তাকে দক্ষিণ কলকাতা থেকে গ্রেফতার করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মহেশ আগরওয়াল কলকাতায় তার নিজের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এনআইএ কর্তারা তাকে আটক করেন। মহেশ আগরওয়ালকে সল্টলেকের এনআইএ-এর অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে রাঁচিতে নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছেন এনআইএ কর্তারা।  

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থায়নের মামলায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডক্টর রবি রঞ্জন এবং বিচারপতি এস এন প্রসাদ মঙ্গলবার আধুনিক পাওয়ারের প্রাক্তন এমডি মহেশ আগরওয়াল এবং পরিবহনকারী অমিত আগরওয়াল এবং বিনীত আগরওয়ালকে কোনও রকম পরিত্রাণ দিতে অস্বীকার করে। এই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পরে, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত করেছিল, আদালতও সমস্ত পুরানো স্থগিতাদেশ বাতিল করে, তিন অভিযুক্তের অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণের মেয়াদ শেষ করে। হাইকোর্টের এই আদেশের পরই যে কোনো সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এর মধ্যেই এনআইএ- এর রাঁচির টিম কলকাতা থেকে মহেশ আগরওয়ালকে গ্রেফতার করে। 

তিনজনের বিরুদ্ধেই মগধ আম্রপালি প্রকল্পে জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে। রাঁচি এনআইএ গোয়েন্দারা একটি মাওবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন। সেখানে মানি ট্রেইল খুঁজে বার করেন তদন্তকারীরা। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, কলকাতার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই টাকা গিয়েছে। এরপরই কলকাতায় তার খোঁজ চালাতে থাকেন তারা। এনআইএ কর্তারা তাকে রাঁচিতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।  তিনি  কত টাকা ফান্ডিং করেছেন, কত বারই বা টাকা দিয়েছেন ওই জঙ্গি সংগঠনকে তা জানতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।  তবে তিনি কি নিজের ইচ্ছেতেই টাকা দিতেন নাকি কোনো রকম চাপের মুখে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।