ক্ষতিকর মোবাইল রেডিয়েশন থেকে বাঁচতে অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

মার্টিন কুপারকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়। তিনি ১৯৭৩ সালে প্রথম মোবাইল ফোনটি তৈরি করেছিলেন

ক্ষতিকর মোবাইল রেডিয়েশন থেকে বাঁচতে অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

আরোহী নিউজডেস্ক: আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি উপাদান হলো মোবাইল ফোন। যা আমাদের সব সময়ের সঙ্গী। সকালে ঘুম থেকে ওঠা ও রাতে ঘুমাতে যাওয়া, সবসময় আমাদের কাছে মোবাইল থাকে। কেননা, এখন মোবাইলের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকেই হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা যায়। তবে মোবাইলের এত সব উপকারের মধ্যে এর কিছু ক্ষতিও রয়েছে। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কুপারকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়। তিনি ১৯৭৩ সালে প্রথম মোবাইল ফোনটি তৈরি করেছিলেন। তার এই বিখ্যাত আবিষ্কারটি ছাড়া এখন এক মুহূর্ত আমরা কল্পনা করতে পারি না।
 

মোবাইল ফোন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভের  মাধ্যমে কাজ করে। তাই এর ভেতর থেকে অদৃশ্য রে আমরা অনেকেই দেখতে পাই না। এক্সরে আলট্রা ভায়োলেট বা গামা বিকিরণের মাত্রার চেয়ে এর মাত্রা কম হলেও মানব শরীরে এর প্রভাব কতটুকু তা এখনো পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায়নি ।তেজস্ক্রিয়তা হলো ভারী মৌলিক পদার্থের একটি গুণ যেগুলোর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা, গামা রশ্মি বিকরণ হয়।কিন্তু আলফা, বিটা, গামা রশ্মির চেয়ে মোবাইল টাওয়ার ও মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন কম হওয়াতেও এই রশ্মি মানবদেহে অনেক ক্ষতি করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল থেকে নির্গত রেডিয়েশন আমাদের মারাত্মক ক্ষতি করে। কল করার সময় অর্থাৎ ওপাশে রিং বাজার সময়ই ক্ষতিকর এই রেডিয়েশন নির্গত হয়। যা আমাদের শরীরের জন্য ঠিক নয়। তাই,

আসুন জেনে নিই কিভাবে আমরা এই ভয়ঙ্কর মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারি...


১. কল রিসিভ করার পর মোবাইল ফোন কানের কাছে আনুন। কথা বলার সময় সম্ভব হলে হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করুন। তাতে রেডিয়েশনের ক্ষতি থেকে কিছুটা হলেও বাঁচা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে ফোনে কথা বলবেন না। দুর্বল নেটওয়ার্কে রেডিয়েশন বেশি নির্গত হয়। এ সময় কথা সংক্ষিপ্ত করুন।
 
২. ঘুমের সময় মোবাইল ফোন মাথার কাছে রাখলে তা ঘুমের পরিমাণ ও গভীরতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন অন্য কোনো দূরত্বে রাখুন।

৩. গাড়িতে বসা অবস্থায় মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করুন। গাড়ির ভেতরে রেডিয়েশন শিল্ড থাকায় ফোনসেটটি রেডিয়েশনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। 

৪. সময়মতো জেগে ওঠার সুবিধার্থে পারতপক্ষে মোবাইল ফোনে নয়, ঘড়িতে অ্যালার্ম দিন।

৫. অন্ধকারে স্ক্রিনের আলো শুধু চোখের ক্ষতিই করে না; ঘুমের জন্যে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণেও বাধা দেয়। তাই অন্ধকারে এ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করুন। আর রাতে ঘুমানোর দু ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিরত থাকুন।
 
৬. স্মার্টফোনের বিভিন্ন সার্ভিস যেমন- ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি প্রয়োজন শেষ হলে অফ রাখুন। এগুলোর রেডিয়েশন দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেইসাথে আপনার ব্যক্তিগত অনেক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যেতে পারে প্রযুক্তি মাফিয়াদের কাছে।
 
৭. শোবার ঘরে ওয়াইফাই রাউটার রাখবেন না। রাত ১১টায় রাউটার বন্ধ করে দিন। ফোন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। 

৮. মোবাইল টাওয়ার থেকে যতটা সম্ভব দূরে বাড়ি নিন। নিজ বাসভবনে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করতে দেবেন না। এতে সামান্য আর্থিক ক্ষতি হলেও রক্ষা পাবে আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীদের অমূল্য স্বাস্থ্য।