বাড়ির সামনেই চপার হাতে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, কি এমন ঘটল বাঁশদ্রোণীতে? 

বাড়ির সামনেই চপার হাতে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, কি এমন ঘটল বাঁশদ্রোণীতে? 

আরোহী নিউজ ডেস্ক : দক্ষিন শহরতলীর নিজের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হল এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃত দেহ। মৃতের মুকেশ সাউ। মৃতের ভাই সঞ্জয় মঙ্গলবার সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়ে দেখেন বাড়ির সদর দরজার সামনে তার দাদার রক্তাক্ত দেহ পরে রয়েছে। বাকরুদ্ধ সঞ্জয় দেখেন উপুড় হয়ে পড়ে আছে দাদার দেহ। ছুরির আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে রয়েছে সেই দেহ। শহরের জনবহুল বাঁশদ্রোনী চত্ত্বরে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর ঘটনা নিয়ে কার্যত শিউরে উঠেছেন  এলাকার বাসিন্দারা। 

মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরাই উদ্ধার করেন মুকেশ সাউ নামে ওই ব্যক্তির ক্ষত বিক্ষত দেহ। প্রথমে দেহ দেখতে পান মুকেশের ভাই সঞ্জয় সাউ। খবর পাঠানো হয় স্থানীয় থানায়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। বাঁশদ্রোনী থানা এলাকার ১৪০, সোনালী পার্কে আশেপাশের মানুষের চোখে মুখে তখন আতঙ্কের ছাপ। পুলিশ জানিয়েছেন, মৃত মুকেশের ভাই সঞ্জয় সাউ বাড়ির দরজার সামনে দাদার উপুড় হয়ে থাকা মৃতদেহ দেখতে পান। মৃতদেহের পিঠে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপের চিহ্ন ছিল। দেহের পাশে চাপ চাপ রক্ত ছিল। তবে কেন এরকম ঘটনা ঘটল  তা অনুমান করতে পারছেন না মুকেশের পরিবারের কেউই।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে মৃতদেহটি বসার ভঙ্গিতে সামনের দিকে উপুড় অবস্থায় রয়েছে। অন্ততপক্ষে তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে তিনি খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তের পর অনুমান করে পুলিশ। উল্লেখযোগ্য ভাবে একটি চপার মৃত অবস্থায় ডান হাতে ধরা ছিল। পুলিশের ধারণা মৃত মুকেশের সঙ্গে কারও গন্ডগোল চলছিল। সেই সময় তাকে পেছন থেকে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দিয়েছে অভিযুক্ত। পরে মুকেশের হাতে চপার রেখে দেওয়া হয়েছে নাকি আগে থেকেই তার হাতে চপার ছিল, সেই উত্তর সামনে এলেই অনেক সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে লালবাজারের ফরেন্সিক দল পৌঁছে গিয়ে সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাই সঞ্জয়ের সঙ্গে মুকেশের দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। স্ত্রী ও  দুই ছেলেকে নিয়ে মুকেশ নভেম্বর মাসে বিহারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সোমবারই মুকেশ একাই বাঁশদ্রোনী বাড়িতে ফিরে আসেন। মুকেশের বাইরে কারোর সঙ্গে কোনও শত্রুতা ছিল না বলেই এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে। তবে মুকেশ ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাতেই খুন হয়েছে বলেই স্পষ্ট পুলিশের কাছে। পারিবারিক শত্রুতার জেরেও খুন হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ভাই সঞ্জয়কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। খুনের সময় একাধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল সেটা মনে করছেন তদন্তকারীরা।