মা কালীর ভোগে চাউমিন ! খাস কলকাতাতেই চলছে মাতৃ আরাধনা 

 মা কালীর ভোগে চাউমিন ! খাস কলকাতাতেই চলছে মাতৃ আরাধনা 

জয়নী হালদার : খোদ কলকাতা শহরে মা কালীর পুজোর ভোগ চাউমিন, চপসি । এমন ঘটনা শুনলে চোখ কপালে উঠতে পারে অনেকেরই। কিন্তু চায়না টাউনের চিনা কালীমন্দিরের পুজোর এই ঘটনা নিতান্তই স্বাভাবিক। 

বাংলার চতুর্দিকে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারও মন্দির। প্রত্যেক জায়গায়তেই লুকিয়ে আছে কিছু ইতিহাস, কিছু আভিজাত্য যা বাড়িয়ে তোলে সাধারণ মানুষের কৌতূহল। 

ট্যাংরার চিনাপট্টির মোড়ে একচিলতে কালীমন্দির। ১৭৭৮ সালে প্রথম চিনা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলার। মিলেমিশে গিয়েছে, ধর্ম ও বর্ণ। তারই একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ এই কালীমন্দির। 

তবে এখানের আসল আকর্ষণ মহামায়ার ভোগে। বিশুদ্ধ হিন্দু মতে পূজা আর পুষ্পাঞ্জলি সারা হলেও ভোগে মেলে চাইনিজ সংস্কৃতির ছোঁয়া। ভোগের নৈবেদ্যর পাশেই থাকে চাউমিন, চপসি, চিলি চিকেনের মতো বিশুদ্ধ চীনা খাবার। 

মন্দির স্থাপনের পিছনেও রয়েছে ইতিহাস। প্রায় ষাট বছর আগে এখানকার স্থানীয় মানুষ সিঁদুর মাখানো দুটো কালো পাথর গাছের নিচে রেখে পূজা করত। পরবর্তীকালে চৈনিকরাও এসে সেটি অনুসরণ করা শুরু করেন।

ধর্মে বৌদ্ধ হলেও বৃদ্ধ জন চেং এই হিন্দু দেবীকে সমান মান্যতা দেন ও পুজো করেন।একজন চীনা ভদ্রলোক মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ধর্মে ছিলেন বৌদ্ধ। বর্তমানে তার তৃতীয় পুরুষ এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি হিন্দু ধর্মে দীক্ষিতও হয়েছেন। তবে পূজার দায়িত্বে একজন হিন্দু পুরোহিতও আছেন।

সীমান্ত, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে যতই ঝগড়া ঝাঁটি চলুক না কেন কলকাতায় কিন্তু হিন্দি চিনি ভাই ভাই। এই সৌভ্রার্তৃত্ব আরও বেড়ে যায় চিনা কালী বাড়িতে।