৬টি ইঞ্জিনের সাহায্যে ২৯৬ ওয়াগন বোঝাই কয়লা নিয়ে ছুটল ‘সুপার বাসুকী’, দেখুন ভিডিও...

একটিই মালগাড়ি, যার দৈর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার

৬টি ইঞ্জিনের সাহায্যে ২৯৬ ওয়াগন বোঝাই কয়লা নিয়ে ছুটল ‘সুপার বাসুকী’, দেখুন ভিডিও...

আরোহী নিউজডেস্ক: মোট ২৯৬টি ওয়াগনে মোট ২৬ হাজার টন কয়লা ৬টি ইঞ্জিনের সাহায্যে বহন করল সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মালগাড়ি। হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন, একটিই মালগাড়ি, যার দৈর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটার। এই মালগাড়িই স্বাধীনতা দিবসের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে চালিয়ে রেকর্ড গড়ল ভারতীয় রেল। দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেল এই মালগাড়ির নাম দিয়েছে ‘সুপার বাসুকি’। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব টুইট করে এই সুবিশাল বাসুকী নাগের মতো মালগাড়ির একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

 

মালগাড়িটির যাত্রাপথ:

এই ট্রেনটি চালানো হয় আজাদী কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে। সোমবার ছত্তিশগড়ের কোরবা থেকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের কাছে রাজনন্দগাওঁ পর্যন্ত মালগাড়িটি চালানো হয় দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেলের তরফে। ভারতীয় রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁরা প্রথমবার এত দীর্ঘ এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চালালেন। এই পণ্যবাহী ট্রেনটি এত লম্বা যে একটি স্টেশন পার করতে সময় লাগে পুরো চার মিনিট। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে,  পাঁচটি মালবাহী ট্রেন যুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়েছে এই দীর্ঘতম মালবাহী ট্রেনটি। যা ৬টি ইলেকট্রিক ইঞ্জিনের সাহায্যে সর্বোচ্চ গতিতে চালানো হয়। সোমবার দুপুর ১টা ৫০মিনিটে এই ট্রেনটি দক্ষিণ-পূর্ব-মধ্য রেলের কোরবা থেকে ছাড়া হয় এবং ২৬৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নাগপুরের কাছে রাজনন্দগাওঁ পৌঁছায় পরদিন সকাল ১১টা ২০ মিনিটে।

 

সুপার বাসুকীর ক্ষমতা:

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে,  এই ট্রেনটি সাধ্যারণ মালবাহী ট্রেনগুলির তুলনায় প্রায় তিনগুন পণ্য বহন করতে সক্ষম ছিল। এলকটি সাধারণ মালবাহী ট্রেন সাধারণত ৯ হাজার টন কয়লা পরিবহন করতে পারে কিন্তু ‘সুপার বাসুকী’ একসঙ্গে ২৬ হাজার টন কয়লা পরিবহন করেছে। যা  সারাদিনের জন্য একটি তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য যথেষ্ট।

 

"সুপার বাসুকী" ট্রায়ালের উদ্দেশ্য:

বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলিতে কয়লার সরবরাহ বাড়াতে এত বড় মালবাহী ট্রেন খুব সহায়ক হতে পারে। শিগগিরই সুপার বাসুকীর মতো আরও পণ্যবাহী ট্রেন চালানো হবে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার ঘাটতি দেখা দিলে সেই সময় এই মালবাহী ট্রেন চালানো হবে ,জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই রেলের আয় বাড়বে। গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রাফিক সমস্যাও মিটবে। সবচেয়ে বড় কথা কম সংখ্যক কর্মী দিয়েই একটি বড় মালগাড়ি চালানো যায়।