পুরভোট মাস খানেক পিছনো যায় কি? কমিশনকে সিদ্ধান্ত জানাতে সময়সীমা বেধে দিল হাইকোর্ট 

পুরভোট মাস খানেক পিছনো যায় কি? কমিশনকে সিদ্ধান্ত জানাতে সময়সীমা বেধে দিল হাইকোর্ট 

আরোহী নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ এই পরিস্থিতিতে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ ভোট পিছনো যায় কি? ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনকে সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে সমস্ত তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। সেই তথ্য খতিয়ে দেখে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক, বলল হাইকোর্ট।

রাজ্যের চার পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে চলতি মাসের ২২ তারিখ। কিন্তু এই অতিমারি পরিস্থিতিতে সেই নির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। গতকাল এই মামলার শুনানি হলেও স্থগিত ছিল রায়দান। তবে এদিন আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকেই বিবেচনা করে দেখতে হবে ৪-৬ সপ্তাহ পুরভোট পিছিয়ে দেওয়া যায় কিনা। তবে সচেতকদের মতে, এরই মাধ্যমে স্পষ্ট হল যে নির্বাচন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ক্ষমতা কমিশনকেই দিতে চায় আদালত।

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এদিন আবারও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার করছেন প্রচুর মানুষ নিয়ে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর এত লোক জড়ো হলে করোনা আরও বাড়বে। এত কিছু ব্যবস্থার পরেও প্রচুর লোক একত্রে জড়ো হচ্ছে। এই বিষয়টি এদিন আদালতে তুলে ধরেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন ছিল, “কমিশন বলছে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে এটা করা যায় না। কে সঠিক বলছেন?” উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, “এই মুহুর্তে ভোট পিছোতে কমিশন একাই পারে।” তবে পাল্টা কমিশনের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বলেন, "দিন ঠিক করে রাজ্য। একবার দিন ঠিক হলে যাবতীয় দায়িত্ব কমিশনের হয়। কিন্তু সেটা নির্বাচন পরিচালনার জন্য। নির্বাচন বন্ধ করার দায়িত্ব কমিশনের নয়। একবার রাজ্য যদি দিন ঠিক করে কমিশন কি পারে সেটা বাতিল করতে? ফলে কমিশন রাজ্যের সঙ্গে একমত নয়"। কিন্তু যদি রাজ্য বিপর্যয় পরিস্থিতির ঘোষণা করে তবে সেক্ষেত্রে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। 

অন্যদিকে, ভোট স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে এদিনও কমিশনের কোর্টেই বল ঠেলেছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ৷ তাঁর দাবি, ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত একমাত্র কমিশনই নিতে পারে ৷এবার এই নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে বলেছে কমিশনকেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভোট পেছানো নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।