দক্ষিণ দিনাজপুরে দুর্গাপুজোয় জমজমাট ভিড়

বিখ্যাত পুজো হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির দুর্গাপুজো

দক্ষিণ দিনাজপুরে দুর্গাপুজোয় জমজমাট ভিড়

আরোহী নিউজডেস্ক:  শহর কলকাতার পাশাপশি এবার দুর্গাপুজোতে নজর কাড়ছে জেলার পুজোগুলিও।  গত দুবছর পর করোনা মহামারীর প্রকোপ কাটিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে জনজীবন। গত দুইবছরের প্রতীক্ষার অবসান হয়ে এবার দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলগুলিতে ঢল নেমেছে মানুষের। উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুজোগুলিতেও সেই ঢল চোখে পড়ার মতো।

বিখ্যাত পুজো হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির দুর্গাপুজো। শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হিলির বিপ্লবী সংঘ ক্লাবের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা শাসক বীজিন কৃষ্ণা। এবারের পুজো উদ্বোধনের পাশাপাশি এদিনের এই  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে,জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাসিম, ডিএসপি হেড কোয়াটার ডক্টর সোমনাথ ঝা- সহ একাধিক প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব।

দুর্গাপুজো উপলক্ষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পৌরসভায় রঙিন আলো লাগানো হল। শুক্রবার রাত্রে বুনিয়াদপুর চৌপথি মোড়ে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকার রঙে শহর জুড়ে লাগানো হল রঙিন আলো।  আলোর উদ্বোধন করলেন মহকুমা শাসক পি প্রমথ, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বুনিয়াদপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক অখিল চন্দ্র বর্মন, উপ পৌর প্রশাসক জয়ন্ত কুন্ডু, বংশীহারী থানার আইসি মনোজিৎ সরকার-সহ অন্যান্যরা। পুজোর মুখে শহর জুড়ে রঙিন আলো পেয়ে খুশি এলাকার মানুষজন। মহকুমা শাসক পি প্রমথ বলেন "আমার শহরে এই প্রথম দুর্গা পুজো। শহর জুড়ে রঙিন আলো উৎসবমুখর শহর আমার খুব ভালো লাগছে।" পৌর প্রশাসক অখিল চন্দ্র বর্মন বলেন "গ্রীন সিটি এবং অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দে শহরের একাধিক সৌন্দর্যায়নের কাজ এবং আলো যুক্ত হচ্ছে। পুজোর মুখে যা অত্যন্ত খুশির খবর বুনিয়াদপুর শহরবাসীর কাছে।"

পঞ্চমীর রাত থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে দুর্গাপুজার বিভিন্ন বড় ছোট পুজো মন্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভীড়ে জমজমাট এবারের পুজো উৎসব। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত শহর হিলি থেকে পতিরাম,  গংগারামপুর,  বুনিয়াদপুর থেকে উত্তরদিনাজপুর লাগোয়া  কুশমন্ডি অন্যদিকে মালদা জেলা লাগোয়া মেহেদীপাড়া থেকে  শেষ প্রান্ত হরিরামপুর। করোনাবন্দী জীবন কাটিয়ে প্রান ভরে পুজোর আনন্দ উপভোগ করে নেবার তাড়নায় মেতেছে ৮ থেকে ৮০। শহরের ছোট বড় পুজোর কর্মকর্তা-সহ পুজো উদ্যোক্তা সব পক্ষই ব্যস্ত। পিছিয়ে নেই বনেদি বাড়ির পুজো উদ্যোক্তারাও। এখন একটা প্রার্থনা পুজোর চারদিন যেন বৃষ্টি অসুর সেই আনন্দ নিরানন্দে না পরিণত করে।