বোধনের আগেই বিষাদের সুর! পঞ্চমীর রাতেই চুরি গেল দুর্গার সোনা-রুপোর গহনা

অর্থাভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হয়নি তাই তদন্ত বেশ খানিকটা জটিল

বোধনের আগেই বিষাদের সুর! পঞ্চমীর রাতেই চুরি গেল দুর্গার সোনা-রুপোর গহনা

আরোহী নিউজডেস্ক: বোধনের আগে পঞ্চমীর মধ্যরাতে প্রতিমার সমস্ত সোনার গহনা চুরি হয়ে গেল। এমনকি বেশ কয়েকটি রুপোর গহনাও চুরি যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরের বায় বাড়িতে। জেলার অন্যতম প্রাচীন এই বনেদি বাড়ির পুজো। পরিবার প্রধান উজ্জ্বল রায় বলেন, "বাড়িটি খুবই প্রাচীন। চারিদিকে দোতলা বাড়ি। এবং উচ্চতাও অনেক বেশি। সদর গেট বন্ধ করলে কোনও ভাবে বাড়ির ভিতর ঢোকা সম্ভব নয়। কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা বুঝতে পারছি না। শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়ার পর পুলিশ এসে তা খতিয়ে দেখে গেছে, অর্থাভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হয়নি তাই তদন্ত বেশ খানিকটা জটিল"। মা দুর্গার সোনার টায়রা, সোনার টিপ, সোনার চোখ, চিক হার, রুপোর একটি বড় আকারের হার, আরও বেশ কিছু অলংকার চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ বাড়ির লোকেদের। 


সরকারি অনুদান না পাওয়ায় দুর্গাপুজো প্রায় বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এই রায় বাড়িতে। তার উপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত গত রাতের চুরি। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। দুর্গের মতন বাড়িতে প্রবেশ এবং রুপোর গহনা রেখে বেছে বেছে সোনার গয়না নিয়ে যাওয়া, রুপোর মুকুট রেখে যাওয়া, এ ধরনের ঘটনা থেকে পরিবারের অনুমান, অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোকের হাত থাকতে পারে এই চুরিতে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। 

শান্তিপুর তো বটেই নদিয়া জেলার অত্যন্ত প্রাচীন এই শান্তিপুর দত্তপাড়া রায়বাড়ীর দূর্গাপুজো। আনুমানিক প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। সে সময়ের জমিদার এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় প্রতিবছর মায়ের গহনা পরিবর্তিত হতো। শান্তিপুরের জনগণের সুবিধার্থে বাগআঁচড়া লাইব্রেরী, মতিগঞ্জ মোড়-সহ বেশ কিছু জায়গা রায় বাড়ি দানও করেছে।

তবে বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা কাজের সুবাদে বাইরে থাকলেও ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে থাকে। কার্যত বন্ধই হতে বসেছিব রায় বাড়ির দুর্গাপুজো। পুজোর রীতিনীতি ঠিকঠাক থাকলেও সে জৌলুস দান খয়রাতি আজ আর নেই। এবারের মতো ১৩-১৪ বছর আগে একবার চুরি যায় মায়ের বহু সোনার গহনা। তার পরবর্তী সময়ে পুজো বন্ধের সিদ্ধান্তও নেয় রা. পরিবার। তবে বর্তমানে রায় পরিবারের সদস্য উজ্জ্বল রায় পুজোর দায়িত্ব নিয়ে পূজো সচল করেন। এবারও দুর্গাপুজো হচ্ছে, তবে জাকজমক নেই।