কে এই হাদি মাতার? কেন তিনি সলমন রুশদির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালালেন?

রুশদির উপর হামলাকারী ব্যক্তির নাম হাদি মাতার

কে এই হাদি মাতার? কেন তিনি সলমন রুশদির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালালেন?

আরোহী নিউজডেস্ক: বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদির উপর শুক্রবার রাতে আচমকাই প্রাণঘাতী হামলা হয়। যা কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। বর্তমানে বিশিষ্ট লেখক মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন নিউ ইয়র্কের এক হাসপাতালে। তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ওই আততায়ীকে গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। জানা যাচ্ছে রুশদির উপর হামলাকারী ব্যক্তির নাম হাদি মাতার। ওই ব্যক্তির বয়স ২৪ বছর এবং বাড়ি নিউ জার্সিতে।

কেন তিনি সলমন রুশদির উপর প্রাণঘাতী হামলা চালালেন?

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, অভিযুক্ত হাদি ইরানিস সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল। জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায় হলেও আদতে সে ইরানি বংশোদ্ভূত। নিউ ইয়র্ক পুলিশের সূত্রে জানা যাচ্ছে, দাবি মাতার আদতে কট্টরপন্থী ইসলামিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বক্তব্য ও লেখা থেকে তাই জানা যাচ্ছে। ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনির প্রতিও অনুগত্য রয়েছে তাঁর। ১৯৮৯ সালে ইরানের এই নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই 'ফতোয়া'  জারি করে রুশদিকে হত্যার ডাক দিয়েছিল। খামেনেই বলেছিল,  যে সলমন রুশদিকে হত্যা করবে তাঁকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। এরপরই সলমন রুশদির ওপর বহু জঙ্গি সংগঠন বা জঙ্গি আক্রমণের ছক কষছিল বলে মনে করছএন মার্কিন গোয়েন্দারা। হাদি মাতারও এই চেষ্টায় ছিল বলেই মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, শুক্রবার সলমন রুশদির অনুষ্ঠানে ঢোকার জন্য একটি পাস জোগাড় করেছিল হাদি। সেই অনুযায়ী, তাঁর শেষ ঠিকানা ম্যানহাটনের অপর পারে ফেয়েরভিউ এলাকা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে যাতে অনেক ডিভাইস ছিল। আর প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাদি কালো পোশাক এবং মুখোশ পড়েই হামলা চালিয়েছিল। অপরদিকে হাদির ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে বোঝা যাচ্ছে, সে ধারাবাহিক ভাবে ইরানের কট্টপন্থী সরকার ও রেভোলিউশনারি গার্ডকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করত। সূত্রের খবর, সলমন রুশদির উপর হামলার ঘটনার তদন্তে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে সাহায্য করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। ফলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।