ফের ভারত- চীন বৈঠক, লাদাখ সমস্যার সমাধান এখনও বিশ বাওঁ জলে 

ফের ভারত- চীন বৈঠক, লাদাখ সমস্যার সমাধান এখনও বিশ বাওঁ জলে 

আরোহী নিউজ ডেস্ক :  বুধবার ভারত-চীন সামরিক ১৪ তম বৈঠকেও কোনো ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেল না।  তবে উভয় দেশই লাদাখ এলএসি সমাধানের জন্য পারস্পরিকভাবে মিটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সেও কারণেই আলোচনার গতি অব্যাহত রাখতে শীঘ্রই পরবর্তী বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। 

যদিও উভয় পক্ষেরই এবিষয়ে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ প্রেস বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ভারত স্পষ্টতই চীনকে পিএলএ-কে কোংকা লা-র কাছে গোগরা-হট স্প্রিংস থেকে বিচ্ছিন্ন করার এবং পাশাপাশি দৌলেট বেগ ওল্ডির ডেপসাং বুল্জে এবং ডেমচক জংশনের চার্ডিং নল্লায় চীনের উপস্থিতি এবং টহল দেওয়া সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে ।

কোনো ইতিবাচক সমাধান তা মিললেও এই বৈঠক যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণই ছিল। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের আলোচনা করা সম্ভব হয়েছে। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং পিএলএ কমান্ডার উভয়ই ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধানে বৈঠকে বসবে কিন্তু তাতে যে গোগরা-হট স্প্রিংসে  বা ডেপসাং ব্লুজে  সিএনজি সমস্যার সমাধান করবে তার কোনও 'স্থায়ী সমাধান মেলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্টতই জানিয়েছে প্যাংগং লেকের ওপর লাদাখ সীমান্তে প্রায় ৫৯৭ কিলোমিটার বরাবর চীনা সেনাবাহিনী দখল করে তার ওপর ব্রিজ নির্মাণ করেছে যাতে দ্রুত সৈন্য মোতায়েন করে তদারকি করা যায়। অন্যদিকে,পিএলএ নতুন সীমান্ত আইন বলবৎ করে অমীমাংসিত এলএসি-এর ৩,৪৮৮ কিলোমিটার লাইনকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতিকরণের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রেখায় রূপান্তরিত করছে।

ভারতীয় এবং চীনা সেনাবাহিনীর মধ্যে লাদাখ নাইটে সমস্যা লেগেই রয়েছে। এই নিয়ে বহুবার বৈঠক, আলাপ-আলোচনাতেও ঠিক করা যায়নি।  প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনস্ত কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনী কমিশনের নির্দেশে চীনা সেনাবাহিনী একতরফাভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণরেখা পরিবর্তন করে নিজেদের তৈরী করা লাইন চাপানোর চেষ্টা করে চলেছে। ২০২০-তে ও ঘটনা সরাসরিভাবে প্রকাশ্যে এলে উভয় পক্ষ থেকেই সম্পূর্ণরূপে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার উভয় পাশেই ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, আর্টিলারি এবং ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট ছাড়াও বিমান বাহিনী মোতায়ন করা রয়েছে। ইতিমধ্যেই চীন সৈন্যবাহিনী ২০২০ সালের মে মাসে প্যাংগং সো, গালওয়ান, গোগরা-হট স্প্রিংস এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে  ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালে দু'দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিকর শান্তি ও প্রশান্তি চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবে লাদাখ সীমান্ত সমস্যা না স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মোদি সরকার এহেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একইভাবে বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।