জাগরণের গান আর আইন প্রত্যাহার, সলিল জন্ম-বার্ষিকীতেই মিলেমিশে একেকার 

জাগরণের গান আর আইন প্রত্যাহার, সলিল জন্ম-বার্ষিকীতেই মিলেমিশে একেকার 

নিবেদিতা দাস :  সালটা ১৯৪৮, বাংলায় বিদ্রোহী গানের জনক যদি কাউকে বলা যেতে পারে তিনি হলেন সলিল চৌধুরী। চাষাভুষো মানুষদের জন্য যার গলা থেকেই ভেসে আসতো "হেই সামালো ধান হো, কাস্তেটা দাও শান গো"- এর মতো মাটির গান। যাঁর গলা দিয়েই বেরিয়ে আসত তিনি আর কেউ নন, বাঙালির সলিল চৌধুরী। আন্দোলনের মিছিল থেকে শুরু করে বিদ্রোহের মঞ্চ কিংবা আমন-আউশ কাটতে কাটতে চাষিদের সমবেত কণ্ঠ- এক লহময়ে এক করে দিতে পারে সলিলবাবুর সৃষ্টি। সমস্ত রকম মানুষের জন্য গলা ছেড়ে সমাজের কাছে যদি গান গাওয়া যেতে পারে, তার থেকে বড় বিদ্রোহ যেন আর কিছুই নেই। এই কথাই যেন বারবার মনে করিয়ে দেন "ভাই রে ধরতি কাহি পুকার কে"- এর মতো মাইলস্টোন গান।  আজ সেই মানুষটার জন্মদিন।  ১৯২৫ সালের এই দিনেই পশ্চিমবাংলাতেই জন্মেছিলেন গোটা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক সলিল চৌধুরী।  

কাট টু, ২০২১, ১৯ নভেম্বর,

সলিল চৌধুরীর জন্মদিন আর আজই দেশে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা কৃষক আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন পাশ হওয়া ৩ টি কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেয়। বিষয়টি কাকতালীয় হলেও, কোথাও গিয়ে যেন ভীষণ প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকের দিনে। 

ভারতের ইতিহাসে কৃষক বিদ্রোহ নতুন বিষয় নয়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় থেকেই কখনও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কখনও বা জমিদার বা মহাজনদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল কৃষকদের গলা। আর তাই দেশের ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই চোখে পড়তে থাকে নীল বিদ্রোহ, পাবনা বিদ্রোহ, দক্ষিনাত্য বিদ্রোহ, পাঞ্জাবের কৃষক অসন্তোষের মতো আন্দোলন-প্রতিবাদ। আর ইতিহাস বলে, যতবারই দেশের কৃষকেরা মাঠের বদলে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছে, ততবারই থমকে গেছে দেশ, পিছু হটেছে শাসক-শোষক পক্ষ। ঠিক এক বছর আগেও ৩ টি কৃষক বিরোধী বিল পাশ করে আইন করে কেন্দ্রীয় সকার। তারপর থেকেই রাজপথে নাম দেশের কৃষকরা। পঞ্জাব, হরিয়ানা মায় দিল্লীর রাস্তা জুড়ে কৃষকরা আন্দোলনে নামেন। গাজীপুর সীমান্তে রোদ-ঝড়-জল মাথায় করে নিজেদের প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় একটা বছর। কিন্তু দাবিতে অনড় থেকে গিয়েছেন কৃষকেরা। মারাও গিয়েছেন বেশ কিছুজন।  তবে আন্দোলন থামেনি।  আর এদিন সেই আন্দোলনেরই জয় হল। কৃষকদের আন্দোলনের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হল সরকার পক্ষকে।  

আর আজকের দিনে সলিল চৌধুরীর জন্মদিনটা কোথাও গিয়ে যেন ভীষণ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আবার যেন দেশের কৃষকদের ক্ষেতে-মাঠে মুক্তকণ্ঠে গেয়ে ওঠার সময় হয়ে এসেছে ,"হেই সমালো হেইও / কাস্তেটা শান দাও গো।"