জেমস ওয়েবের ফের কামাল! পাঠাল ঝকঝকে নেপচুনের ছবি

পৃথিবী থেকে নেপচুনের দূরত্ব ৪৩০ কোটি কিলোমিটার

জেমস ওয়েবের ফের কামাল! পাঠাল ঝকঝকে নেপচুনের ছবি

আরোহী নিউজডেস্ক: পৃথিবী থেকে নেপচুনের দূরত্ব ৪৩০ কোটি কিলোমিটার। ফলে উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সৌরমণ্ডলের এই গ্রহের ভালো ছবি পাওয়া যায়নি। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ বা ভয়েজার মহাকাশযান যা এই নীল গ্রহের ছবি তুলে পাঠিয়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগের কয়েকটি ছবিই এতদিন ভরসা ছিল মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। এবার তাঁদের মুশকিল আসান করল নাসার অত্যাধুনিক টেলিস্পোক জেমস ওয়েব। ৪৩০ কোটি কিলোমিটার দূরের এই গ্রহের একেবারে ঝকঝকে ছবি তুলে পাঠাল জেমস ওবেব।

নাসার তরফে সেই ছবি শেয়ারও করা হয়েছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আগেই জেনেছিল শনি গ্রহের মতো নেপচুনেরও বলয় রয়েছে। কিন্তু এই বলয় সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও ধারণা ছিল না। পাশাপাশি বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল পুরু বরফের চাদরে মোড়া গ্রহটি। এবার জেমস ওয়েবের ক্যামেরায় ধরা পড়ল নেপচুনের বলয়ের। বলা ভালো নেপচুনের বলয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে এবার। আসলে সূর্য থেকে পৃথিবী যত দূরে, পৃথিবী থেকে নেপচুনের দুরত্ব তার তিনগুণ। ফলে এত দূরের গ্রহের বলয়ের ছবি খুবই অস্পষ্ট ছিল এতদিন। সেই ১৯৮৯ সালে নাসার ভয়েজার ২ মহাকাশযানের তোলা ছবিতে শেষ বার দেখা গিয়েছিল নেপচুনের বলয়।

মহাকাশ থেকে নেপচুনকে গাঢ় বেগুনী রঙের দেখায়। কারণ সূর্য থেকে এর দূরত্ব। কেউ কেউ নেপচুনকে অতিকায় তুষারের গোলা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ওপর সৌরজগতের এক কোণে অন্ধকারময় অঞ্চলে নিজের কক্ষপথে ঘোরে এই নেপচুন। ফলে সূর্যের আলো সেখানে অনেক ক্ষীণ। বিজ্ঞানীদের দাবি, ভরদুপুরেও নেপচুনে গোধুলির আলো মনে হবে। এই নেপচুনের স্পষ্ট এবং বলয়-সহ ছবি পাওয়াকে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতোই দেখছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। উল্লেখ্য, মহাকাশে জেমস ওয়েব কাজ শুরু করার পর থেকেই একের পর এক আশ্চর্য ছবি তুলে পাঠাচ্ছে এই অতিকায় টেলিস্কোপ।