দাবিদারহীন একাকী আইনজীবীর দেহ পড়ে মর্গে, অন্তেষ্টি করবে আইনজীবী সতীর্থরাই

নিজেকে এবং পরিবারকে ভালো রাখতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু এর জেরে কখন যে একা হয়ে পড়ছেন সেটাই খেয়াল থাকে না

দাবিদারহীন একাকী আইনজীবীর দেহ পড়ে মর্গে, অন্তেষ্টি করবে আইনজীবী সতীর্থরাই

আরোহী নিউজডেস্ক: বর্তমান ইঁদুর দৌঁড়ের জমানায় একাকিত্ব এক ভয়ানক মহামারী হয়ে উঠেছে। মানুষ এখন শুধুই অর্থ ও সাফল্যের পিছনে ছুটছে। নিজেকে এবং পরিবারকে ভালো রাখতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু এর জেরে কখন যে একা হয়ে পড়ছেন সেটাই খেয়াল থাকে না। আর এর জেরেই অসুস্থ হলে বা চরম বিপদে পড়লেও কেউ দেখার নেই। পকেটে অর্থ থাকলেও দিনের শেষে বাড়ছে একাকিত্ব। কারণ সুখ দুঃখ ভাগ করবার সাথীর বড়ই অভাব। আজকের দিনে সামাজিক মাধ্যমে হাজার বন্ধুর ভিড়ে বাস্তব জগতে পাশে থাকার মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম। এই পরিস্থিতিতে মৃত্যু যখন দরজায় এসে দাঁড়ায়, তখন পাশে থাকার মত কেউ থাকে না। দিনের পর দিন মৃতদেহ পড়ে থাকার পর টনক নড়ে প্রতিবেশীদের। এবার এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল খাস কলকাতা। আর ঘটনাটি ঘটল কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীর ক্ষেত্রে।

 

গত ২৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌশিক দে-র মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহতে ভয়ানক পচন ধরেছিল। দুর্গন্ধ ছড়াতে টনক নড়ে প্রতিবেশীদের। যদিও জানা যাচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় ওই আইনজীবীর। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। কিন্তু বিড়ম্বনার এখানেই শেষ নয়। মৃতদেহ দাহ করবেন কে? কারণ, মৃত আইনজীবীর নিকট পরিজন বলতে কেউ ছিল না। সমস্যার শুরু হয় সেখান থেকেই।

মৃত আইনজীবী কৌশিক দে কলকাতা হাইকোর্টে দীর্ধদিন ধরেই আইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে শেষ একমাস গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত কেই কৌশিকবাবুর দেহের দাবি করেননি। ফলে আজও মর্গে পড়ে রয়েছে দেহটি। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরাই মৃত কৌশিক দে-র অন্তেস্টিক্রিয়া করার জন্য আবেদন করেছেন। এই বিষয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। দেহটি বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। যেহেতু এখনও পর্যন্ত কৌশিকবাবুর তরফে কেউ মৃতদেহের দাবি করেনি, তাই এই সিদ্ধান্ত নেয় তার আইনজীবী সতীর্থরা। এক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানাননি রাজ্য সরকারও। আপাতত ঠিক হয়েছে, মৃত আইনজীবীর দেহ যাবতীয় নিয়ম-বিধি মেনে বার অ্যাসোসিয়েশনের হাতেই তুলে দেওয়া হবে। তাঁর দেহ সৎকারের সমস্ত ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। মৃতের ডেথ সার্টিফিকেট থাকবে বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। যদি ভবিষ্যতে কেউ কৌশিকবাবুর দাবিদার হিসেবে আসেন, তখন দাবির বৈধতা যাচাই করে ওই ব্যক্তির হাতে ডেথ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে।