পুজোর ভিড়েও জড়োসড়ো ওরা! ঢাকের সঙ্গে কেউ বাজায় কাঁসর, কেউ বা তাসা

বাবা বা কাকুদের হাত ধরে আসতে দেখা গিয়েছে মিঠুন রবিদাস, নিখিল রবিদাসদেরও

পুজোর ভিড়েও জড়োসড়ো ওরা! ঢাকের সঙ্গে কেউ বাজায় কাঁসর, কেউ বা তাসা

আরোহী নিউজডেস্ক: কবে আসবে মরশুম? কবে আসবে বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপূজো? সারা বছর এরই প্রতীক্ষায় থাকেন ঢাকিরা। করোনার ধাক্কায় দুটো বছর পুজো হয়েছিল নম নম করে। ফলে ঢাকির দল বেশিরভাগ মণ্ডপ থেকে ডাকই পায়নি। এবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে বাঙালির প্রিয় দুর্গোৎসব। কথায় আছে, যারা মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক বাজান, তাঁদের পুজো শুরু হয় দশমীর পর। পুজোর সময় ঢাক বাজিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই ছেলে মেয়েদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনার সুযোগ হয় তাঁদের। আর বাবা-কাকাদের সঙ্গে কাঁসর বা তাসা নিয়ে মণ্ডপে চলে দূর দেশে চলে আসেন পরিবারের খুদে সদস্যরাও।

এবারও রাজ্যের বিভিন্ন মণ্ডপে দেখা গেল এই চিত্র। সকলেই যখন নতুন জামা পড়ে ঠাকুর দেখতে আসছে। কঁচি-কাঁচার দল ফুলের মতো সেজে মণ্ডপ দাপিয়ে বেরাচ্ছে, তখনই মণ্ডপের এক কোনে জড়োসড়ো হয়ে ঢাকের তালে কাঁসর বাজাচ্ছে কোনও শিশু। তাঁর মন ঠাকুর দর্শনের দিকে নেই। তাঁর একটাই চিন্তা, দুটো পয়সা এলে তবেই হবে নতুন জামা বা বই খাতা।

মালদা জেলায় প্রচুর ঢাকি থাকেন। বছরের অন্য সময় চাষবাস বা দিন মজুরের কাজ করলেও পুজোর আগে ঢাক ঠিকঠাক করে নিয়ে পারি দেন দুরদেশে। কেউ কেউ কলকাতায় আবার কেউ শিলিগুড়িতে। গত দুই বছর করোনার সময় ভালো করে পুজো না হওয়ায় অনেক ঢাকিই শিলিগুড়ি আসেননি। এবার ফের উৎসব পুরোদমে হওয়ায় শিলিগুড়িতে চলে এসেছেন ঢাকিরা। পুজোর কদিন কাটবে মণ্ডপেই কাটবে তাঁদের। আশা এবার অন্তত কিছু বেশি টাকা রোজগার করে পরিবারের জন্য ভালো কিছু নিয়ে যাওয়া যাবে। তাই দুটো পয়সার জন্য ভিটেমাটি ছেড়ে শিলিগুড়িতে পাড়ি জমিয়েছেন মালদহের ঢাকিরা।

আর বাবা বা কাকুদের হাত ধরে আসতে দেখা গিয়েছে মিঠুন রবিদাস, নিখিল রবিদাসদেরও। প্রত্যেকেই স্কুল পড়ুয়া। এদের মধ্যে কেউ তৃতীয় বা কেউ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ঢাকের সঙ্গে কেউ বাজায় তাসা, আবার কেউ কাঁসর। কেউ কেউ আবার প্রথমবারের মতো শহরের পুজো উপভোগ করতে এসেছে। ফলে উৎসাহের খামতি নেই মিঠুন-নিখিলদের।