ভারতের "গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি" কে বাঁচাতে শশি থারুরের টোটকা

প্রথম প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র পেশ করেছিলেন থারুর

ভারতের "গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি" কে বাঁচাতে শশি থারুরের টোটকা

আরোহী নিউজডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সভাপতি পদে মনোনয়ন পেশ করেছেন তিরুবন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর ও রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। আগামীদিনে কংগ্রেসের হাল ফেরাতে কোন প্রার্থী কি পরিকল্পনা করছেন তাই ইস্তেহার আকারে প্রকাশ করার পালা। প্রথম প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র পেশ করেছিলেন থারুর। এবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশেও বিপক্ষ খাড়গেকে টেক্কা দিলেন তিরুবন্তপুরমের সাংসদ। যদিও শুরুতেই ইস্তেহার প্রকাশ করে হোঁচট খেতে হয় থারুরকে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় সেই ইস্তেহারে থাকা ভারতের মানচিত্রটি বিকৃত করা। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিজেপির নেতারা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি থারুরকে। মানচিত্র-কাণ্ড এখন অতীত। দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে যে টোটকা দিয়েছেন থারুর তা হল...


১. তৃণমূল স্তরের নেতা কর্মীদের ক্ষমতায়ণ: একাধিকবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে কংগ্রেসে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। গান্ধি পরিবারের বলয়ের মধ্যেই আবর্ত। কোনও রাজ্যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে হলেও দিল্লির নেতাদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। থারুর ইস্তেহারে লিখেছেন, দলের তৃণমূল স্তরের যোগ্য নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার বন্টন করতে হবে। 
২. সংগঠনের ভোলবদল : কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিকাঠামোয় যে মরচে পড়েছে তা বিগত দিনে একের পর এক রাজ্যের নির্বাচনে ভরাডুবিতে স্পষ্ট। এ অবস্থায় দলকে চাঙ্গা করতে যে দলের তৃণমূল স্তরের সংগঠনের যে খোলনলচে বদলের প্রয়োজন আছে তা থারুরের মত অভিজ্ঞ নেতা জানেন। ইস্তেহারে সংগঠনের আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন তিরুবন্তপুরমের সাংসদ। 
৩. নারী শক্তির ক্ষমতায়ণ : দলে মহিলাদের ক্ষমতায়ণের উপর জোড় দিয়েছেন থারুর। সংখ্যা তথ্যের বিচারে লোকসভা ও রাজ্যসভার  মহিলা সদস্য সংখ্যা কংগ্রেসের বেশ কম। এমনকি বিরোধী দল তৃণমূলও টেক্কা দিয়েছে কংগ্রেসকে। অপরদিকে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে দেশের মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক যে বড় ফ্যাক্টর তা অজানা নয় থারুরের। নির্বাচনী ইস্তেহারে তাই মহিলা ক্ষমতায়নের পক্ষেই থারুরের সওয়াল। 
৪. যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ : কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারবাদের অভিযোগ নতুন নয়। প্রার্থী চয়নেও একাধিকবার সেই পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। একাধিক রাজ্যে নির্বাচন জিতেও, একাধিক প্রার্থী দলবদল করে বেকায়দায় ফেলেছে দলকে। এই পরিস্থিতিতে যোগ্য নির্ধারণ করার আশ্বাস দিয়েছেন থারুর।  

এছাড়াও নির্বাচনী ইস্তেহারে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি এবং ভারতের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদনীতিকে স্মরণ করিয়ে দেন থারুর।  পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক পরিকল্পনার কথা ইস্তেহারে প্রকাশ করেছেন দেশের এই প্রাক্তন কূটনীতিবিদ।     এছাড়া যুবায়ণের পক্ষেও সওয়াল করেছেন থারুর। দেশে যুবকদের সমস্যাগুলিকে  তুলে ধরে দেশের যুব সম্প্রদায়কে দলে আহ্বান করেছেন থারুর। বিজেপি সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ জানাতে “ছায়া মন্ত্রিসভা” স্থাপনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার কথা ইস্তেহারে লিখেছেন থারুর। প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় গান্ধিজিকেও এই কথা বলতে শোনা গিয়েছিল। সর্বশেষে, নির্বাচনের পর দলীয় কর্মীদের জনসংযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন থারুর। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক কাজকে হাতিয়ার করতে বলা হয়েছে এই ইস্তেহারে। এই ইস্তেহার আসন্ন কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে থারুরকে কতটা অক্সিজেন যোগায় সেদিকে নজর থাকবে।