যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য, পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী, অনুদান ঘোষণা রেলের

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য, পরিদর্শনে রেলমন্ত্রী, অনুদান ঘোষণা রেলের

আরোহী নিউজ ডেস্ক : মঙ্গলবার রাতে রাজস্থানের বিকানির থেকে গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল বিকানের- গুয়াহাটি এক্সপ্রেস । উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রেনটির পৌঁছনোর কথা ছিল অসমের গুয়াহাটিতে। কিন্তু, তার আগেই ময়নাগুড়ির দোমহনিতে লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বিকানের এক্সপ্রেস। দুর্ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকার্যে হাত লাগায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় এনডিআরএফ, এসডিআরএফ ও রেল পুলিশ বাহিনীর। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার কাজ  শুরু হয়। এরপর রাত হয় যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলে আলোর ব্যবস্থা করে রাতভর উদ্ধার কার্য চালায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। গ্যাস কাতার দিয়ে কামরা কেটে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী । 

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির দোমহনিতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি।  যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি । তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ও জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। রাত তিনটে নাগাদ এস ১০ কামরা থেকে এক যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত উদ্ধারকাজ শেষ, এখন লাইন পরিষ্কারের কাজ চলছে। যদিও এখনও কামরার ভিতরে যাত্রীদের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে তারা নিশ্চিত ট্রেনের কোনো কামরাতেই আর কোনো যাত্রী আটকে নেই। কুয়াশার মধ্যেই রেল লাইন থেকে ইঞ্জিন ও দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ৮টি কামরা সরানোর কাজ চলছে। আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বার্লা।

আজই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি জানান,  দুর্ঘটনার কারণ ট্রেন চালক বা রেল ট্র্যাকের নয়, ট্রেনের যন্ত্রপাতি এবং ইঞ্জিনের সমস্যাই হয়ত বা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। যদিও তিনি স্পষ্ট করে কোনো কারণকে দায়ী করেন নি । বরং দুর্ঘটনার কারণ আসলে কি ?মান্ধাতার আমলের কামরাই কি দায়ী? এই প্রশ্নের উত্তর কার্যত এড়িয়ে যান। 


তবে সিগনাল বা পয়ন্টের সমস্যা নয়, লাইনের ত্রুটি থেকেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর ধারণা রেল আধিকারিকদের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে উদ্ধারকার্যেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বিকানের এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায়  ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করল রেল। দুর্ঘটনায় মৃতদের মাথাপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করে রেল। গুরুতর আহতরা পাবেন ১ লক্ষ টাকা করে। গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ এবং আহতদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া  হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরিস্থিতি বিশদে জানানো হয়েছে।