শীতের রোদে গা ভিজিয়ে খাঁটি নলেন গুঁড়ে চুমুক দিয়ে বেরিয়ে পড়ুন গড়পঞ্চকোটে

শীতের রোদে গা ভিজিয়ে খাঁটি নলেন গুঁড়ে চুমুক দিয়ে বেরিয়ে পড়ুন গড়পঞ্চকোটে

আরোহী নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণের জেলা গুলিতে বইতে শুরু করেছে উত্তুরে হাওয়া। আর শীত পড়লেই ভ্রমণ প্রিয় বাঙালীর মনটা কেমন উড়ুউড়ু করে। ভাবছেন তো, ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। বাঁধ সাধছে দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা। তাই আপনার রিল্যাক্সেশনের জন্য রইলো একটা ছোট্ট সাজেশন। দু-তিন দিনের ছুটি নিয়ে ছোট্ট লাগেজ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোটের উদ্দেশ্যে। পাঞ্চেত পাহাড়ের পাদদেশে শাল, পিয়াল, আর ঘন মহুয়ার জঙ্গলে ঘেরা হল গড়পঞ্চকোটের সবুজ আপনার চোখের আরাম দেবেই। 

প্রাকৃতিক শোভার পাশাপাশি দর্শন মিলবে ৫০০ বছরের পুরনো ধ্বংস প্রায় কল্যানেশ্বরীর মন্দির। কথিত আছে বর্গি হামলার পর এই মন্দিরকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পার্শবর্তী পর্যটন কেন্দ্র মাইথনে। এখানে রয়েছে ছোট বড় বহু মন্দির, তবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল টেরাকোটা নির্মিত দক্ষিণ ও পূর্বদুয়ারী পঞ্চরত্ন রাসমন্দির। যে মন্দিরের দেওয়ালে চোখ রাখলে আজও নজরে আসে ক্ষতবিক্ষত টেরাকোটা শিল্পের নিপুন কাজ। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন,পাঞ্চেত বাঁধ, বিহারীনাথ পাহাড়, বড়ন্তি ও জয়চন্ডী পাহাড়। সবই গড়পঞ্চকোট থেকে মাত্র ২০-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। 

 ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলায় গড়পঞ্চকোটের প্রাকৃতিক শোভা। শীতকালে মনোরম আবহাওয়া আর জঙ্গলের রুক্ষ ঝরা পাতা। বসন্তে পলাশের আগুন রাঙা রং আর বর্ষায় ঘন সবুজ চারিপাশ, যা দেখলে এক নিমেশে ক্লান্তি দূর হবে আপনার। তবে শীতের সময় পুরুলিয়ায় গেলে বাড়তি পাওনা হিসাবে মিলতে পারে সুস্বাদু খেঁজুরের রস আর খাঁটি নলেন গুড়। শহরে বসে যা প্রায় পাওয়াই যায় না।  


  
ভাবছেন সবই তো হলো কিন্তু যাবেন কিভাবে? সেই উপায় ও বাতলাবো আমরাই। কলকাতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে পুরুলিয়ার  গড়পঞ্চকোট আপনি ট্রেন বা প্রাইভেট কারে করেই যেতে পারেন। ট্রেনে যেতে হলে হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে আদ্রা, আসানসোল বা বড়াকো স্টেশন নামতে হবে আপনাকে। এরপর প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে প্রকৃতির অপরূপ শোভা দেখতে দেখতে পৌঁছে যান গড়পঞ্চকোট। \

    এখনো কি ভাবছেন, দেরি না করে ঝটপট রওনা দিন গড়পঞ্চকোট।