সৌমিত্র স্মরণ- বাংলা চলচ্চিত্র জগতে মহীরুহের জন্মদিন

সৌমিত্র স্মরণ- বাংলা চলচ্চিত্র জগতে মহীরুহের জন্মদিন

সুস্মিতা বর্মন : প্রত্যাখ্যান কি মানুষকে পরিপূর্ণ করে! যে মানুষটা এককথায় এই প্রশ্নের উত্তরে ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি জানাতেন, তিনি বাংলা সিনেমা জগতের নক্ষত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বুধবার তাঁর ৮৭তম জন্মদিন। সৌমিত্র বাবুর জীবন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তবে তাঁর শুরুর দিকের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রত্যাখ্যানে ভরপুর জীবনেও স্বপ্ন দেখার ইচ্ছে ছিল ষোলোআনা। আর তাই বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমা জগতের কিংবদন্তী শিল্পী জীবনের শেষ সময় অবধি থেকেছেন 'লাইট', 'ক্যামেরা' ও 'অ্যাকশনে'। তবুও বলেছেন, 'শিখলাম কই! রোজই শিখি, একটু একটু করে। রোজ নতুন দিন, নতুন শেখা'। এমন জীবন শক্তি যার সেই মানুষটা একটা জাতিকে যে প্রবুদ্ধ করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯ জানুয়ারি মানেই তাই সৌমিত্র প্রেমীদের কাছে, 'সৌমিত্র দিন'। 

৫০ এর দশকে থিয়েটারে ঋদ্ধ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতার সিনেপাড়ায় ঘুরতেন। স্বপ্ন ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের। একের পর এক পরিচালকদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন তিনি। কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি। নিজের ওপর আস্থা হারালে হয়তো শিল্পীর আত্মা মরে যায়। তাই সৃষ্টিতে বিশ্বাস রেখে জীবনের শেষ অবধি কাজ করেছেন। মৃত্যুর পরও এখনো তার বেশ কিছু কাজ মুক্তির অপেক্ষায়। তিনি জীবনকে যতটা দিয়েছেন, জীবন তাঁকে দু'হাত ভরে দিয়েছেন অনেক কিছু। 

সিটি কলেজে পড়ার কালে কিংবদন্তী নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির কুমার ভাদুড়ীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই থেকে তাঁর জীবনের পণ অভিনয়। এখনো অবধি ৩০০ টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু মঞ্চকে ভোলেননি। শেষ জীবনেও নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাটক লিখতেন, নাটক করতেন। শিকড়কে আঁকড়ে ছিলেন বলেই এমন এক মহীরূহতে পরিণত হয়েছেন। যিনি ছায়া দেন বাংলা সিনেমা জগতকে। 

'দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান'। জুলুমবাজ রাজত্বে এ কথা এখন কে বলে! তবুও সৌমিত্রবাবু ও সত্যজিতের হাত ধরে এই লাইনটাই বাঙালির রন্ধ্রে রয়ে গেছে। একাধারে নাট্যকার, কবি, পরিচালক, চিত্রশিল্পী শুধু নব পত্রিকা সম্পাদক হিসেবেও বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজীবন জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এই বহুমুখী প্রতিভা সম্পন্ন মানুষটির জন্মদিনে সশ্রদ্ধ প্রণাম। হাজারও প্রত্যাখ্যান, ভেঙে যাওয়া মানুষগুলোর কাছে সৌমিত্রবাবু একজন উদাহরণ হিসেবে থাকুক। যিনি নিকষ আঁধার সরিয়ে বলবেন 'ইউরেকা'!