তিন মাসের মেয়েকে আর দেখা হল না সুভাষের, পিঠে খাওয়ায় আশা অপূর্ণই থেকে গেল চিরঞ্জিতের

তিন মাসের মেয়েকে আর দেখা হল না সুভাষের, পিঠে খাওয়ায় আশা অপূর্ণই থেকে গেল চিরঞ্জিতের

আরোহী নিউজ ডেস্ক :  কেউ আসছিলেন ভিন রাজ্য থেকে নিজের বাড়িতে পিঠে পুলির টানে, কেউ বা আসছিলেন নিজের ৩ মাসের ফুটফুটে মেয়েকে দেখতে । দেশের অন্য প্রান্ত রাজস্থানের থেকে একাধিক রাজ্য পেরিয়ে প্রায় এসেও গিয়েছিলেন বাড়ির কাছে, বাকি ছিল আর মাত্র কয়েক ঘন্টা! পূরণ হল না কোনো ইচ্ছেই । প্রবল ঝাঁকুনি, তারপরই সব শেষ!প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে অন্তত এমনটাই শোনা গিয়েছে।  ময়নাগুড়ির ট্রেন দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণ গুলোকে। 

পৌষ সক্রান্তীর পিঠে পুলির টানে সুদূর রাজস্থান থেকে কোচবিহারে নিজের বাড়িতে ছুটে আসছিলেন তিন যুবকের।  ময়নাগুড়ি ট্রেন দুর্ঘটনাইয় মৃত ৯ জনের মধ্যে কোচবিহারের ৩ বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ওই ৩ জন হলেন কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের চান্দামারি এলাকার চিরঞ্জিত বর্মণ(২৩), ফলিমারি দেওয়ানবস এলাকার সুভাস রায়(৩৮) এবং মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের ফ্যাইসসাবাড়ি বাসিন্দা নবাব আলি(৪০)। এরমধ্যে নবাব আলির দেহ ইতিমধ্যেই তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। অন্য দুজনের দেহ নিয়ে আসার জন্য তাঁদের আত্মীয়স্বজনরা জলপাইগুড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

যদিও জানা গিয়েছে এঁদের মধ্যে সুভাস রায় ছুটে আসছিলেন তার মাত্র ৩ মাসের মেয়েকে দেখবেন বলে। ভিনরাজ্যে প্রায় ১৫ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করেন।২ ছেলের পর মেয়ে। ৩ মাস আগে মেয়ে হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই মেয়েকে দেখার জন্য ছটফট করছিলেন সুভাষ। প্রথমবার মেয়েকে কোলে নেবেন সেই আনন্দে কিশানগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন পৌঁছলে দাদাকে ফোন করে তিনি জানান মেয়েকে কোলে নেওয়ার জন্য  তর সইছে না তার । সন্ধ্যে ৭ টার সময়ে তার নিউ কোচবিহার স্টেশনে নামার কথা ছিল। তার আগে ৫ টার সময়েই ময়নাগুড়ির কাছে ট্রেন দুর্ঘটনা । এক লহময় সব শেষ!

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই ৩ জনই রাজস্থানের জয়পুরে শ্রমিকের কাজ করতেন। বাড়ির সবার সাথে পৌষ সংক্রান্তী  উৎসব পালন করতেই ফিরছিলেন তারা। অন্যদিকে করোনার বাড়বাড়ন্ত শুরু হওয়াতেই তাঁরা বাড়িতে ফিরে আসছিলেন। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি এসেও তাঁদের বাড়ি ফিরতে হল কফিনবন্দি হয়ে। তাঁদের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌছাতেই বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারিদিক। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা পরিবারে কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের সাতমাইল এলাকার বাসিন্দা তথা তৃনমূল শ্রমিক ও মজদুর সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি অমল রায় বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের মৃত দুই জনের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা হয়েছে। সকলেই শোকস্তব্ধ। দেহ নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”