দেশের প্রথম পালকি অ্যাম্বুলেন্সে চেপে হাসপাতালে প্রসূতি

দেশের প্রথম পালকি অ্যাম্বুলেন্সে চেপে হাসপাতালে প্রসূতি

আরোহী নিউজ ডেস্ক: বক্সা পাহাড়ের কোলে দুর্গম পাহাড়ি পথে প্রসূতি মায়েদের জন্য চালু হয়েছিল দেশের প্রথম পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা। এবার এই অ্যাম্বুলেন্স করেই এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। এরপর এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন প্রত্যন্ত বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দা পাশালুং ডুকপা। 

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৬০০ ফুট উচ্চতায় প্রত্যরন্ত দূরগম বক্সা পাহাড়ের ডারাগাঁও তে বাড়ি ওই প্রসূতির। গত ১৫ই জানুয়ারি হটাৎ শারিরিক ভাবে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন তিনি। খবর দেওয়া হয় পাহাড়ে সদ্য চালু হওয়া পালকি আ্যম্বুলেন্স পরিষেবাকে। খবর পেয়েই বাডির সামনে হাজির পালকি আ্যম্বুলেন্স। আর এই আ্যম্বুলেন্স চড়েই পাহাড় থেকে নেমে আসেন জিরো পয়েন্টে। তারপর সেখান গাড়িতে চেপে তাকে কালচিনি লতাবাড়ি মাদার হাব। সেখানে সোমবার এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

দুর্গম এই বক্সে পাহাড়ের কোলে লেপচা ডুকপা লিম্বু মঙ্গর আদিবাসী জনজাতির বসবাস। বিগত দিনগুলিতে পাহাড়ের সন্তানসম্ভবা প্রসূতিদের নিয়ে আসা হতো বাঁশের মাচায় চাপিয়ে। যার ফলে অনেকসময়ই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ত ও প্রসূতি মায়েরা। অন্যান্য রোগীদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছিল। পাহাড়ের কোলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্রাম গুলির মধ্যে লেপচাখা, তাসিগাও, লালবাংলো, চুনাভাটি, বক্সাফোর্ট সদর বাজার এর মত মোট ১৩টি গ্রামের তিন হাজারের মত মানুষ বসবাস করে। বক্সা পাহাড়ের পাদদেশ সন্তলাবাড়ি থেকে দুর্গম চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এ সমস্ত গ্রামগুলিতে পৌঁছাতে হয়। তবে দেশের প্রথমেই পালকি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হওয়ায় আপাতত খুশি পাহাড়ের মানুষেরা

এতদিন বক্সা পাহড়ের কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে বাঁশের মাচায় ট্রেকিং করে সমতলে নামিয়ে আনতে হত ৷ এবার থেকে এই পালকিতে করে রোগীদের নিয়ে যাওয়া হবে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে ৷ এই পালকি এম্বুলেন্সে রয়েছে সব ধরনের পরিষেবা। আছে অক্সিজেন পরিষেবা, গরম জলের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম। পালকির সঙ্গেই থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশিক্ষিত দুই মহিলা কর্মী। স্বাভাবিকভাবে পালকি এম্বুলেন্স চালু হওয়াতে অনেকটাই খুশি গ্রামের মানুষ।