পৌষ পার্বণে আজও কাঠের ঢেঁকিতেই ভরসা কৃষ্ণগঞ্জের গৃহকর্ত্রীদের

পৌষ পার্বণে আজও কাঠের ঢেঁকিতেই ভরসা কৃষ্ণগঞ্জের গৃহকর্ত্রীদের

আরোহী নিউজ ডেস্ক : পৌষ পার্বণ মানে পিঠে-পুলি আর পিঠে-পুলি মানেই চালের গুঁড়ো, দুধ, নলেন গুড়ের সমাহার। তা সে পাটিসাপটা হোক বা পুলি পিঠে, আঁশকে পিঠে, সাঁচের পিঠে, ভাপা পিঠে- চালের গুঁড়ো ছাড়া সবটাই অসম্ভব । আর তাই সেই চালের গুঁড়ো করতে আগেকার দিনে মানুষের  পিঠেপুলির একমাত্র অবলম্বন ছিল কাঠের ঢেঁকি। যেকোন গ্রামে গেলে দেখা যেত পৌষ পার্বণ আসার আগেই বাড়ির মহিলারা সকালবেলা আতপ চাল ভিজিয়ে রেখে  সেই চাল শুকনো করে তা ঢেঁকিতে সুন্দর গুড়ো করে নিত। তা দিয়েই   তৈরি নানা রকম পিঠে। 

কিন্তু কালের নিয়মে মানুষের ভাবনার পরিবর্তন হয়েছে ।এখন আর কেউ ঢেঁকির ওপর নির্ভর করে না বললেই চলে। ঘরে ঘরে মিক্সার নয়তো বা মেশিনের সাহায্যে দোকান থেকে  গুড়ো করে আনা চালের গুঁড়োর ওপরই ভরসা।

যদিও নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্ত লাগোয়া নালুপুর গ্রামের চিত্র টা কিছুটা অন্যরকম। এই গ্রামে এখনও পৌষ পার্বণের সময়ে একমাত্র ভরসা সেই পুরনো দিনের ঢেঁকির উপর। সেখানকার মহিলারা  আজও ঢেঁকিতে চাল গুঁড়া করেন । তাঁদের বক্তব্য, 'এই চালের গুড়োতে পিঠে ভালো ও সুস্বাদু হয়। কিন্তু মেশিনের গুড়োর পিঠে ভালো হয়না।' সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে সবকিছুতেই কিন্তু এখনও অনেক মানুষই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে নিত্য দিনে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।