জেলায় জেলায় সংগঠনে ব্যপক রদবদলে বড় বার্তা দিল তৃণমূল

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন আগামী বুধবার মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে। তাতে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে আনা হচ্ছে

জেলায় জেলায় সংগঠনে ব্যপক রদবদলে বড় বার্তা দিল তৃণমূল

আরোহী নিউজ ডেস্ক: দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পর ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূলের ভাবমূর্তি। দলের ভিতরই দাবি উঠছিল দুর্ণীতিতে অভিযুক্তদের সরিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্বকে সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে আনার। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তাতে কার্যত শিলমোহর পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন আগামী বুধবার মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে। তাতে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে আনা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার রদবদলের আগেই দলীয় সংগঠনে ব্যপক রদবদল করল রাজ্যের শাসকদল। বিভিন্ন জেলায় জেলা সভাপতি বদল করল তৃণমূল। জেলা সভাপতি পদে নিয়ে আসা হল একাধিক নতুন মুখ। অপরদিকে দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে দলীয় সংগঠনে নারীশক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে চমক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

 সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল তুঙ্গে। তখনই জেলায় জেলায় সংগঠনে বড় রদবদল করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। একাধিক জেলা সভাপতি বদল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কয়েকটি সাংগঠনিক জেলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল। একাধিক সাংগঠনিক জেলায় দলের সভাপতি পদে মহিলা মুখকে দায়িত্ব দিয়ে চমক দিয়েছে তৃণমূল। দার্জিলিংয়ের দুটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি করেছে তৃণমূল। পাহাড়ের সভাপতি করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শান্তা ছেত্রিকে। আর দার্জিলিংয়ের সমতলে সভাপতির দায়িত্বে বহাল রয়েছেন পাপিয়া ঘোষ।

 অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক শাঁওনি সিংহ রায়কে। এক্ষেত্রে বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ দুটি পৃথক সাংগঠনিক জেলাকে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি সাংগঠনিক জেলা কমিটি তৃণমূলের। দমদম ও ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে এখনও কারও নাম ঘোষণা করেনি শাসকদল। সূত্রের খবর, আগামী দিনে ঘোষণা করা হতে পারে। চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে। যিনি বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে পরে শাসক দলে নাম লেখান। তাঁকেই এবার সাংগঠনিক দায়িত্ব দিল রাজ্যের শাসকদল।

বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এই দায়িত্বে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়। তাঁকে সরিয়ে কাকলিকে ফের সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে এল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কোচবিহারেও পার্থপ্রতিম রায়কে সরিয়ে আনা হল  অভিজিৎ দে ভৌমিককে।