আজ হরিয়ানায় দলীয় কার্যালয় খুলছে তৃণমূল 

আজ হরিয়ানায় দলীয় কার্যালয় খুলছে তৃণমূল 

আরোহী নিউজ ডেস্ক :  জাতীয় এরে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে তৃণমূল। আর সেই জন্যই গোয়া এবং ত্রিপুরায় ইতিমধ্যে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস । বুধবার হরিয়ানাতেও অফিস খুলছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ওই কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা হরিয়ানার পর্যবেক্ষক সুখেন্দুশেখর রায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন হরিয়ানার তৃণমূল নেতা অশোক তানোয়ার এবং অন্যান্য নেতা-কর্মী। এর পাশাপাশি গোয়ায় সম্ভবত মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে তৃণমূল। মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি হল গোয়ার অনেক পুরনো আঞ্চলিক শক্তি। এক সময়ে গোটা গোয়ায় তাদের অবিসংবাদী প্রভাব ছিল। ছয়ের দশকে গোমন্তক পার্টি থেকে গোয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দয়ানন্দ বান্দোদকর। পরে এই দল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ে। গোয়ায় মূল দুই শক্তি হয়ে ওঠে কংগ্রেস ও বিজেপি।

 গোয়ায় গত বিধানসভা নির্বাচনে তথা ২০১৭ সালের ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৩২ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস পেয়েছিল ২৮ শতাংশ ভোট। আর গোমন্তক পার্টি পেয়েছিল ১১ শতাংশ ভোট। গোমন্তক পার্টির সঙ্গে জোটের ব্যাপারে তৃণমূল প্রকাশ্যে এখনও কোন মন্তব্য অবশ্য করেননি। তবে কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রণব ঝা বলেন, গোয়ায় তৃণমূলের নিজস্ব কিছু নেই। সবই ভাড়া করা। নানা রকম হিসেবনিকেশ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গোয়ায় ছোট ও তস্য ছোটদলগুলির সঙ্গে ওরা সমঝোতা করতে চাইছে। যাতে ভোটের পর মুখরক্ষার জন্য একটা ভোট শতাংশের হিসাব দেখাতে পারে। আসলে বিরোধী ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়াই ওদের উদ্দেশ্য। ত্রিপুরায় পুরভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেছিলেন, তৃণমূলই এখন ত্রিপুরা রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল। এবার আসল খেলা হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ত্রিপুরার পুরভোটে তৃণমূলের স্ট্রাইক রেট দুরন্ত। তারা মোট তিনটি পুর এলাকায় প্রার্থী দিয়েছিল। 
আগরতলার ১০০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। 

আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ায় অধিকাংশ আসনে জোড়াফুলের প্রার্থী ছিল। দেখা গেল, এই তিনটি পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডেই তৃণমূল দ্বিতীয় হয়েছে। বিশেষ করে নজর কাড়ছে আগরতলা কর্পোরেশনে তৃণমূলের বিরোধী হিসেবে উত্থান। ত্রিপুরার রাজধানী শহরে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৫১টি। ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে সব আসন বিজেপির দখলে। কিন্তু ২৬টি ওয়ার্ডে তৃণমূল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর ২৫টিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএম। তৃণমূলকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে মানতে চায়নি সিপিএম। দলের ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী দ্য ওয়াল-কে বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করেছেন তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।' কেন? প্রাক্তন সিপিএম সাংসদের বক্তব্য, 'ত্রিপুরার ২০টি পুরসভা ও নগরপঞ্চায়েতের মধ্যে ১৩টিতে ভোট হয়েছিল (সাতটি আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল বিজেপি)। তাঁর মধ্যে আগরতলার সব আসন, আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ার অধিকাংশ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। বাকি আর কোথাও তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। তাহলে হিসেবটা দাঁড়াল এই রকম, মোট ২০টির মধ্যে ১৩টিতে লড়াই করেছে সিপিএম। তিনটিতে লড়াই করেছে তৃণমূল।' এই পরিসংখ্যান দিয়েই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বোঝাতে চান, তিনটি পুরসভায় প্রার্থী দিয়ে কী ভাবে তৃণমূল 'প্রিন্সিপাল অপজিশন' হবে?