অতিমারীর ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটনশিল্পে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে নবান্ন

সব কেন্দ্রে পর্যটকদের পরিষেবার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন

অতিমারীর ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটনশিল্পে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে নবান্ন

আরোহী নিউজডেস্ক: করোনা অতিমারীর সময়কালে গোটা বিশ্বেই ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে পর্যটনশিল্প। যার আঁচ এই রাজ্যেও এসে পৌঁছেছিল। তবে গত এক বছরে করোনার প্রভাব কমতে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পর্যটনশিল্প। এবার পর্যটনের পালে আরও হাওয়া দিতে এবং পুজোর আগেই পর্যটকদের কাছে রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আকর্ষনীয় করে তুলতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের শারদোৎসব আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাই এবার রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রিক জেলাগুলিকে ঢেলে সাজাতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে জেলাশাসকরা এই ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি পর্যটকদের পরিসেবা এবং নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে নবান্ন থেকে।

প্রত্যকটি পর্যটন কেন্দ্রেই অন্তত আট থেকে দশটি কিয়ক্সের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। যেখানে তন্তুজ, মঞ্জুষা-সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তাদের কারুশিল্প, হস্তশিল্প, হ্যান্ডলুম, বাংলার তাঁতকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরবে। বিক্রি করা হবে পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন নিদর্শন আঁকা টি-শার্ট এবং নানান স্মরনিকা। নবান্ন মনে করছে, দেশের বহু রাজ্য তাঁদের পর্যটনকেন্দ্রগুলির নানা স্মরণিকা বিক্রির ব্যবস্থা করে আসছে বহুদিন ধরে। যা পশ্চিমবঙ্গের কোনও পর্যটন কেন্দ্রে সচরাচার দেখা যায় না। তাই এবার পঞ্চায়েত দফতরের হাতে থাকা আনন্দধারার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই কাজে লাগানো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিরাচরিত পর্যটনকেন্দ্রগুলি ছাড়াও বহু জায়গায় লোকশিল্পকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আনাগোনা ইদানিং বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে অফবিট স্থানে ভ্রমণের প্রবনতা। সেই সকল এলাকায় বিদেশি পর্যটকরাও পৌঁছে যাচ্ছেন। জেলাশাসকদের এই সব কেন্দ্রে পর্যটকদের পরিষেবার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। এ ব্যাপারে স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত হোমস্টের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ১৭০৪ টি হোমস্টেকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে।