স্টেশনে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও ইঞ্জিন বন্ধ করা হয় না কেন জানেন?

আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ব্যাপারে রেলের বক্তব্য কি...

স্টেশনে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও ইঞ্জিন বন্ধ করা হয় না কেন জানেন?

আরোহী নিউজডেস্ক: ভারতীয় রেলকে বলা হয় দেশের লাইফলাইন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয় ভারতীয় রেল। দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনেই হোক আর দুরবর্তী কোনও স্থানে পৌঁছতেই হোক, কম খরচে যাত্রা করতে হলে ট্রেনে চাপতেই হয়। চলার পথে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামে যাত্রীদের ওঠানামা করার জন্য। সেই সময় আমরা অনেকেই লক্ষ্য করেছি যে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকলেও ইঞ্জিন কখনও বন্ধ করা হয় না। এমনকি কোথাও ট্রেন বা মালগাড়ি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও ইঞ্জিন বন্ধ থাকে না। ফলে প্রশ্ন জাগতেই পারে কেন বন্ধ করা হয় না রেলের ইঞ্জিন? এর পিছনে রয়েছে চমকপ্রদ কারণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই ব্যাপারে রেলের বক্তব্য কি...

রেলের দাবি, কোনও স্টেশনে বা সাইডিংয়ে বিভিন্ন কারণে ট্রেন বা মালগাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু এই সময় সেই যাত্রীবাহী ট্রেন বা মালগাড়ির ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রাখতে হয়। এর পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম নিরাপত্তার কারণ।

রেলের দাবি, সাধারণত ট্রেনের ইঞ্জিন পুরোপুরি চালু হতে ৫ থেকে ৬ মিনিট সময় লাগে। কারণ এতে এয়ার কম্প্রেসার ব্রেক বসানো থাকে। এটি মূলত বাতাসের চাপে কাজ করে। তাই ট্রেনের ইঞ্জিন সব সময় চালু থাকা দরকার। না হলে এই ব্রেক কাজ করবে না।

ইলেকট্রিক ও ডিজেল দুই ধরণের রেল ইঞ্জিনেই এই এয়ার ব্রেক যুক্ত থাকে। তাই ইঞ্জিন বন্ধ থাকা অবস্থায় যদি সিগন্যাল সবুজ বা হলুদ হয়ে যায় তাহলে দ্রুত ট্রেন ছাড়া সম্ভব হবে না। প্রায় ১০ মিনিট লেগে যাবে, ফলে ট্রেনটি লেট করবে।

অন্য একটি কারণ হল, ট্রেনের মধ্যে যে পাখা, আলো জ্বলে তা বিদ্যুতে নয় বরং ব্যাটারিতে চলে। আর সেই ব্যাটারি সবসময় চার্জ হয় ইঞ্জিন থেকে আসা বিদ্যুতে। ফলে ইঞ্জিন বন্ধ থাকলে ট্রেনের কামরায় সব আলো, পাখা বা এসি বন্ধ হয়ে যাবে।

ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইঞ্জিন কখনোই বন্ধ করা হয় না। কারণ ডিজেল ইঞ্জিন চালু রাখতে প্রয়োজন হয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার। ফলে এখানে প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে। বারবার ইঞ্জিন বন্ধ এবং চালু করলে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে, তাই ডিজেল ট্রেনের ক্ষেত্রেও সবসময় ইঞ্জিন চালু থাকে।