৬ বছর ধরে পিত্তথলিতে জমেছে ২০০০ পাথর! কোন রোগে ভুগছিলেন বৃদ্ধ? কী ভাবে প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকেরা?

Jul 7, 2026 - 17:51
 0  0

পিত্তথলিতে পাথর হওয়া কোনও বিরল রোগ নয়। তবে একসঙ্গে প্রায় ২০০০টি পাথর জমা সাধারণ সমস্যা নয়। ৮৩ বছরের এক বৃদ্ধের তেমনটাই হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী ওই বৃদ্ধের পিত্তথলি থেকে প্রায় ২০০০টি পাথর বার করেছেন চিকিৎসকেরা। বিগত ৬ বছর ধরে ওই পাথর বয়ে বেড়াচ্ছিলেন বৃদ্ধ। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ক্যালকুলাস কোলেসিস্টাইটিস রোগে আক্রন্ত হয়েছিলেন।

পিত্তথলিতে এত পাথর জমে কী ভাবে?

লিভার থেকে পিত্তরস তৈরি হয়ে পিত্তথলিতে গিয়ে জমা হয়। এর কাজ হল চর্বিজাতীয় খাবার হজমে সাহায্য করা। এই পিত্তরসের প্রধান তিনটি উপাদান আছে— কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন এবং পিত্ত-লবণ। স্বাভাবিক অবস্থায়, পিত্ত লবণ তরল কোলেস্টেরলকে দ্রবীভূত করে রাখে। কিন্তু যদি এই প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়, তখনই কোলেস্টেরল জমাট বেঁধে পাথর হিসেবে জমতে থাকে পিত্তথলিতে। আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল তৈরি হলে পিত্ত-লবণ তা গলাতে পারে না। তখনও কোলেস্টেরল জমে ক্রিস্টালের মতো আকার নিতে থাকে পিত্তথলিতে। আবার কারও যদি লিভার সিরোসিস বা লিভারের অন্য কোনও রোগ থাকে, তা হলে পিত্তথলি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিলিরুবিন তৈরি করতে থাকে। এই বিলিরুবিন তখন ক্যালশিয়ামের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে শক্ত পাথর হয়ে জমা হতে থাকে।

বৃদ্ধের এই সমস্যাগুলি তো ছিলই, পাশাপাশি আরও এক রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করেছিল, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্যালকুলাস কোলেসিস্টাইটিস’। পিত্তরস যদি পিত্তথলিতে ঢোকার মুখে বাধা পায়, তা হলে সেখনে জমতে শুরু করে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করে দেয়। জমতে থাকা পিত্তরস যত ঘন হয়, ততই তাতে ব্যাক্টেরিয়া জন্মাতে থাকে। ফলে এক দিকে যেমন তা জমাট বেঁধে পাথর তৈরি করে, তেমনই অন্য দিকে পিত্তথলির দেওয়ালে ক্ষত তৈরি করে। ফলে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। রোগীর পেটে মারাত্মক যন্ত্রণা শুরু হয়।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে পেটের যন্ত্রণাকে আমল দেননি বৃদ্ধ। সাধারণ গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা ভেবে ওষুধও খেয়েছিলেন। ফলে রোগ তো সারেইনি, উল্টে পাথরের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। শেষে যন্ত্রণা যখন অতি তীব্র আকার নেয় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়, তখনই তিনি চিকিৎসকের কাছে আসেন। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে পাথরের অবস্থান দেখে চিকিৎসকেরা ল্যাপারোস্কোপি সার্জারি করেন। ৯০ মিনিটের অস্ত্রোপচারে প্রায় ২০০০টি পাথর বার হয়।এমন ঘটনা কম জনের ক্ষেত্রেই ঘটে। তবে পিত্তথলিতে পাথর যাতে না জমে, তার জন্য খাওয়দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। পেটের ডান দিকে ও উপরে ব্যথা হতে থাকলে এবং সেই ব্যথা পিঠ অবধি ছড়িয়ে পড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অস্ত্রোপচার যদি করতে হয়, তা হলে তার পরেও নিয়ম মানতে হবে। সে জন্য পরিমিত খাবার, জীবনযাপনে কিছুটা সংযম জরুরি। ধূমপান, অ্যালকোহলের নেশা কমিয়ে দেওয়াই ভাল। অস্ত্রোপচারের পর কিছু দিন তরল খাবারই খেতে হবে। দুধ, ছানা, দই খাওয়া যেতে পারে। তবে ক্রিম না খাওয়াই ভাল। ভাজা, তেল-মশলাদার খাবার একেবারেই চলবে না। তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে চাইলে বাইরের খাবারে রাশ টানতে হবে। পিৎজ়া, বার্গার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, বেশি চিনি দেওয়া খাবার খাওয়া চলবে না। চা বা কফিতে ক্যাফিন থাকায় সমস্যা বাড়াতে পারে। কাজেই অস্ত্রোপচারের পরে চা বা কফি মেপে খাওয়াই ভাল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0