অভিষেককে সরালে অনেকেই ফিরবে’, মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋত শিবিরে গিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ

Jul 12, 2026 - 14:42
 0  1
অভিষেককে সরালে অনেকেই ফিরবে’, মমতার সঙ্গ ছেড়ে ঋত শিবিরে গিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ

উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়ে দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ভুল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনেকটাই দায়ী। রবীন্দ্রনাথের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সক্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হলে বহু পুরনো নেতা ও কর্মী আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফিরে আসতে আগ্রহী হবেন।

প্রায় বাইশ বছর ধরে কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের হাতে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলের ক্ষমতা ধীরে ধীরে সীমিত কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যতার পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলেও সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

দলের ধারাবাহিক ভাঙন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম এবং তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসেননি। একই সঙ্গে তিনি আইপ্যাকের ভূমিকারও সমালোচনা করে বলেন, বহু বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতাদের পরামর্শ দেওয়ার অবস্থানে রাজনৈতিকভাবে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১১ কিংবা ২০১৬ সালের নির্বাচনে আইপ্যাকের সাহায্য ছাড়াই তৃণমূল সাফল্য পেয়েছিল। তাই বর্তমানে এই সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করেছে বলেই তাঁর মত।

যদিও তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন, তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বক্তব্য, তাঁর বিশ্বাস বহু নেতাই এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থাশীল। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলেই তাঁর এই ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে রাখা হয়, তাহলে অনেকে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ফিরে আসতে পারেন।

তাঁর এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আলোচনা করলেন না কেন? এর উত্তরে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানান, তিনি কোনও নতুন তৃণমূলে যোগ দেননি। তাঁর মতে, তৃণমূল একটিই এবং যেখানে দলের অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নেতৃত্ব একত্রিত হয়েছেন, সেখানেই তিনি থেকেছেন। তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের বহু বিধায়ক ও নেতা বর্তমানে একই অবস্থানে রয়েছেন, তাই কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অভিযোগ, অতীতে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ তৃণমূল কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সঙ্গে থেকে কাজ করার উদ্দেশ্যেই তিনি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0