১০০ বোতল কাশির সিরাপ নদীতে ভাসালেই ২ হাজার

Jul 12, 2026 - 18:33
 0  2
১০০ বোতল কাশির সিরাপ নদীতে ভাসালেই ২ হাজার

জঙ্গিপুর: গঙ্গায় মাত্র ১০০বোতল কাশির সিরাপ ভাসিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে! হাতে চলে আসবে নগদ ২০০০টাকা। রোজগারের এই সহজ উপায় হাতছাড়া করতে চায়নি সামশেরগঞ্জের যুবক আবুজার শেখ। সে দু’হাজার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বৃহস্পতিবার রাতে সামশেরগঞ্জের ১২নম্বর জাতীয় সড়কের পিলকি মোড়ের কাছ থেকে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ সহ তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। ধৃতকে জেরা করেই কাশির সিরাপ চোরাচালানের এই অভিনব কৌশল সামনে এসেছে। ধৃত যুবক সামশেরগঞ্জ থানার জালাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকশো মিটার দূরে গঙ্গা নদী। আর নদীর ওপারে বাংলাদেশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক মালদহের কালিয়াচক থেকে কাশির সিরাপ নিয়ে এসেছিল। এক-একটি প্যাকেটে ১০০টি করে বোতল ভরা ছিল। পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত। মালদহ থেকে এনে প্রথমে নিজের বাড়িতে কাশির সিরাপ মজুত করবে। তারপর সুযোগ বুঝে তা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে। জলের স্রোতে সেই কাশির সিরাপ ওপারে গেলেই বাংলাদেশের চোরাকারবারিরা তা সংগ্রহ করে নেবে। পুরো ‘অপারেশন’ সফল করার পুরস্কার হিসাবে মিলত ৪০হাজার টাকা। কিন্তু ওই কাশির সিরাপ নিয়ে যাওয়ার পথেই সে ধরা পড়ে। পুলিশি জেরায় ধৃত যুবক স্বীকার করেছে, নদী থেকে তার বাড়ির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিমি। তাই এই কাজ তার পক্ষে খুব সহজ ছিল। কয়েকবছর আগেও সে একই কায়দায় কাশির সিরাপ পাচার করেছিল। মাঝে পুলিশি তৎপরতা ও ধরপাকড় বেড়ে যাওয়ায় সে এই কারবার বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি ফের তাকে মোটা টাকার টোপ দেওয়া হয়। বলা হয়, ১০০টি বোতলের একটি প্যাকেট ভাসাতে পারলেই দু’হাজার টাকা মিলবে। লোভ সামলাতে না পেরে সে ফের এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে।

ধৃতের দাবি, মালদহের এক মূল চক্রী তাকে ভুল বুঝিয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, এগুলি নিষিদ্ধ ফেনসিডিল নয়, সাধারণ কাশির সিরাপ। এতে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। পুলিশ ধরবে না। সেই ফাঁদে পা দিয়ে এখন শ্রীঘরে আবু জার। মালদহের ওই মূল চক্রীর খোঁজে পুলিশ জোরকদমে তল্লাশি শুরু করেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0