আসানসোলে উচ্ছেদে অভিযানে ফুঁসছেন হকাররা, পুরসভার ৩ অফিসারকে শোকজ

Jul 12, 2026 - 18:44
 0  1
আসানসোলে উচ্ছেদে অভিযানে ফুঁসছেন হকাররা, পুরসভার ৩ অফিসারকে শোকজ

আসানসোল: বৃষ্টির মধ্যে জিনিসপত্র গোছাতে আধ ঘণ্টাও সময় দেয়নি। তারই মধ্যে পুরসভার আধিকারিকদের নির্দেশে বুলডোজার গুঁড়িয়ে দিয়েছে জিনিসপত্র ভর্তি ফুটপাতের দোকান। শতাধিক দোকানের উপর বুলডোজার চালানোর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসছে সমগ্র আসানসোল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা ঝড় উঠেছে। শুক্রবারের পর শনিবারও এর প্রতিবাদে জিটি রোডে জমায়েত করেন হকাররা। শনিবারই হকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আসানসোল পুরসভায় বৈঠকে বসেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মন্ত্রীর দাবি, তাঁর বা পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনারের অজান্তেই উচ্ছেদ হয়েছে। তারজন্য তিন আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। উত্তর সন্তোষজনক না হলে সাসপেন্ড করা হবে। পুরমন্ত্রী জানিয়েছে, শুক্রবারের উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর রাস্তা দখল না করে যে সব দোকান রয়েছে তাদের ছটপুজো পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল পুরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয় শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ফুটপাতে থাকা দোকান ভেঙে খালি করে দিতে হবে। সেই সময়সীমার পরই  শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান। ঘোষণার পর থেকেই আসানসোলজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। ব্য‌বসায়ীরা পুরসভার নির্দেশ মেনে সামগ্রী গোছাতে শুরু করেন। কিন্তু বৃষ্টিতে তাঁদের জিনিসপত্র সরাতে দেরি হয়। তারমধ্যেই পুলিশ ও বুলডোজার নিয়ে হাজির হন আসানসোল পুরসভার আধিকারিকরা। বৃষ্টির জন্য বাড়তি সময় না দিয়ে একের পর এক দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জিনিসপত্র ভর্তি দোকান ভেঙে দেওয়ায় কিছু অনেক জিনিসপত্র লুট হয়ে যায়।

ওখানে চাউমিনের দোকানদার নীপু গোস্বামী বলেন, আমরা জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছিলাম। তারমধ্যেই বুলডোজার দিয়ে আমার দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দোকানের জিনিসপত্র লোহার দরে বিক্রি করতে হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিপিএম ও কংগ্রেস নেতারা।  শুক্রবার থেকেই তাঁরা হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। শনিবার হকাররা নিজেদের ম঩঩ধ্যে সংগঠন করে জিটি রোডে জমায়েত করে ‘ইনক্লাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলেন। 


তারপরই ওই এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। হকাররা তাঁকে নিজেদের সমস্যা কথা বলেন। তিনি বলেন, পুরসভার কিছু আধিকারিক আমাদের সরকারকে বদনাম করার চেষ্টা করছেন। আমি অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাব। তবে, পুরমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সন্তোষ প্রকাশ করেন হকাররা। 
প্রশ্ন উঠছে, পুরসভার নাকের ডগায় উচ্ছেদ অথচ পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরা কেন তা জানতে পারলেন না। তাহলে এত পুলিশ কার নির্দেশে এল? ওপরতলার নির্দেশ না থাকলে কি পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা দলবল নিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে নামতে পারেন? 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0